জামালপুর সদর উপজেলার ১নং কেন্দুয়া ইউনিয়নের কৃতি সন্তান আরমান ফয়সাল আকাশ এখন শুধু পরিবারের নয়, পুরো এলাকার গর্ব। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তার অনন্য টান ও অধ্যবসায়, বাবা-মায়ের ত্যাগ ও পরিবারের নিঃশর্ত স্নেহের মিলেই গড়ে উঠেছে এই স্বপ্নপূরণ। আরমান নিজের হতাশা-উদ্দীপনা, ধৈর্য, ইচ্ছা ও পরিশ্রমের কথা বারবার উল্লেখ করেন এই চারটি গুণ তাকে আজকের জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে, তিনি নিজেও তাই মানেন।
আরমানের কন্ঠে ছোট বেলা থেকেই ফুটবলকে ঘিরে যে স্মৃতিগুলো জড়িত, সেগুলো মর্মস্পর্শী। আকাশ বলেন, তার বাবার ইচ্ছা ছিল একদিন তিনি যেন পরিচিতি পায় একজন ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে। পরিবার-পরিচয়ের অচেনা শহরে প্রতিদিন অনুশীলনে যাওয়া, মায়ের প্রতিদিনের সহযাত্রা এসবই ছিল তার প্রথম কঠিন পরিশ্রমের দিনগুলি।
পরিবারের আবদার ও অনুপ্রেরণার পাশাপাশি আরমানের পাশে ছিলেন মামা সানোয়ার হোসেন সানু। খারাপ সময়গুলোতে যিনি তাকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছেন, সমস্যার মুখে দাঁড়িয়েছেন আকাশের কাছে তিনি কেবল মামা নন, এক অসাধারণ মানুষ। আর ছোট্ট শহরের মাঠে প্রথম সারিতে তার খেলাটা গড়া করে দিয়েছিলেন কোচ সৌমু; সে হাত ধরেই ফুটবলের বুনিয়াদি শিক্ষা পায় আরমান। তিনি বলেন, কোচের সেই তত্ত্বাবধান ও ধৈর্য ছাড়া আজকের অর্জন কল্পনাও করা যেত না।
আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তায়ালার রহমতে আকাশ আজ বাবার অনেক পুরোনো ইচ্ছে পূরণ করতে পেরেছেন; তা তার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। তবুও আনন্দের মাঝেই পরিবারের উদ্বেগ আছে তার বাবা বর্তমানে অসুস্থ। আকাশ সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন, যেন আল্লাহ তার বাবাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন। তিনি বারবার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এবং আবেগভরে বলেন, আব্বা-আম্মা, আমি আপনাদের অনেক ভালোবাসি।” আরমান ফয়সাল আকাশের গল্পটা তাই কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের কাহিনি নয়; এটি পরিবারের ত্যাগ, গ্রামের সহানুভূতি এবং ছোট্ট শহরের মাঠ থেকে উঠে আসা এক তরুণের বিশ্বাস ও পরিশ্রমের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন। কেন্দুয়া ইউনিয়ন ও জামালপুরের জনসাধারণ তার জন্য গর্ববোধ করেন এবং সবাই তার পরিবারের জন্য দোয়া করছেন। ভবিষ্যতে আরমান যেন আরও বড় মঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারে এই কামনাই স্থানীয় মানুষদের, প্রশিক্ষকদের এবং সমর্থকদের।
আকাশের বাল্য শিক্ষক মমিনুর রহমান খান বলেন, “আমার ছাত্র, একইসঙ্গে আমাদের গ্রামের ছেলে আকাশ আজ বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে মাঠে নামবে এ শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, আমাদের গ্রামের এবং দেশের গর্বের মুহূর্ত। একসময় স্কুলের মাঠে স্বপ্নের পিছু দৌড়ানো সেই আকাশ আজ দেশের জার্সি গায়ে সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ দেখতে যাচ্ছে। তার পরিশ্রম ও বিশ্বাসের ফল এটা। আল্লাহ তাকে আরও সাহস ও স্থিরতা দিন, যেন গর্বের সঙ্গে দেশের পতাকা তুলে ধরতে পারে। আমাদের দোয়া সবসময় তার সঙ্গে থাকবে।”


সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন