শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খন্দকার আরিফুল আলম রবিন (৫২) আর নেই। ১৬ মে শনিবার ভোররাতে রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, দুই পুত্রসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুম খন্দকার আরিফুল আলম রবিন শেরপুর জেলা আদালতের সাবেক জিপি প্রয়াত অ্যাডভোকেট খন্দকার নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় পুত্র এবং জেলা আদালতের বর্তমান জিপি অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব খন্দকার মাহবুবুল আলম রকীবের ছোট ভাই।
শহরের বাসভবনে শোকের ছায়া ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সান্ত্বনা: শনিবার সকালে মরহুমের মরদেহ শেরপুর শহরের ওয়্যারলেস মোড় এলাকার বাসভবনে পৌঁছলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয় এবং পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয় এই মানুষকে শেষবারের মতো দেখতে এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দিতে মরহুমের বাসায় ছুটে যান সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা এবং শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এছাড়া জেলা প্রশাসনসহ বিএনপি, জামায়াত ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সর্বস্তরের ব্যক্তিবর্গ নিহতের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে উপস্থিত হন।
তিন দফা জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন: শনিবার বাদ যোহর শেরপুর শহরের তেরাবাজার জামিয়া সিদ্দিকিয়া মাদ্রাসা মাঠে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজাপূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনায় মরহুমের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহমুদুল হক রুবেল, শেরপুর-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশীদ পলাশ, শেরপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান পিপি, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার, জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা জাকারিয়া মো. আব্দুল বাতেন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল, মরহুমের বড়ভাই ও বর্তমান জিপি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুবুল আলম রকীব, বিএনপি নেতা আবু রায়হান রূপন এবং হাসানুর রেজা জিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এরপর মরহুমের কর্মস্থল নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ডিগ্রি কলেজ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা এবং পরবর্তীতে বানেশ্বর্দী খন্দকারবাড়ী এলাকায় তৃতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বানেশ্বর্দী পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের মরদেহ রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদায় দাফন করা হয়।
বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন ও শিক্ষকতায় জনপ্রিয়তা: খন্দকার আরিফুল আলম রবিন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে রসায়ন বিভাগ থেকে সফলতার সাথে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। গৌরবোজ্জ্বল ছাত্রজীবনে তিনি জাবির একটি হলের ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষাজীবন শেষে তিনি নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ডিগ্রি কলেজে রসায়ন বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন এবং পরবর্তীতে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এছাড়াও তিনি একসময় শেরপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 'সিলিকা কোচিং সেন্টার' প্রতিষ্ঠা করেন এবং অত্যন্ত সুনামের সাথে সেটি পরিচালনা করেন। একজন আদর্শ ও দক্ষ শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মাঝে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়, শ্রদ্ধেয় ও সমাদৃত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে শেরপুরের শিক্ষা ও আইনজীবী অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।


সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন