আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ (সদর) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শেরপুর জেলা রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে নতুন আলোচনার ঝড়।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে জানানো হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়ে শফিকুল ইসলাম মাসুদকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ শেরপুর জেলা বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। তিনি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও জেলা যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তিনি একাধিক মামলার আসামি হন। আন্দোলন-সংগ্রামে শারীরিকভাবে নির্যাতিত হওয়া প্রথম সারির নেতাদের একজন হিসেবেও তিনি পরিচিত। এসব কারণে তৃণমূল পর্যায়ে তার জনপ্রিয়তা তৈরি হয়, যা জেলা রাজনীতিতে তাকে একটি প্রভাবশালী অবস্থানে নিয়ে আসে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাসুদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া শুধু দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য নয়, বরং এটি শেরপুর সদর আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণে অসন্তোষের প্রতিফলন। দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা, মামলা-মোকদ্দমা মোকাবিলা এবং তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা থাকায় মাসুদ মনে করছেন, তিনি ভোটের মাঠে স্বতন্ত্রভাবেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিদ্রোহ শেরপুর-১ আসনে বিএনপির ভোটের হিসাব জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূলের একটি অংশ মাসুদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ায় ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বহিষ্কার প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রভাষক এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার কারণে কেন্দ্রীয় কমিটি শফিকুল ইসলাম মাসুদকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করেছে।”
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, “দলীয় নীতি ও সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
মাসুদের বহিষ্কারের খবরে শেরপুর সদর আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপির একাংশ এ সিদ্ধান্তকে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য জরুরি বললেও, তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী মনে করছেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত একজন নেতাকে বহিষ্কার করা ভোটের মাঠে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাসুদের অবস্থান, তার জনসমর্থন এবং বহিষ্কারের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া—শেরপুর-১ আসনের নির্বাচনী লড়াইকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ ও বহুমাত্রিক করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন