সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
শেরপুর সদর উপজেলায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর এক নির্বাচনি এজেন্টকে পথরোধ করে মারধর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের হেরুয়া–বালুরঘাট নামাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।আহত গিয়াস উদ্দিন রাসেল মিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার মাথা, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
গিয়াস উদ্দিন রাসেল জানান, তিনি শেরপুর-১ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা–এর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে জামায়াতের কর্মী–সমর্থকরা তার ওপর হামলা চালায়। স্থানীয় কেরামত, জামাল, সোহেল, মনিরসহ ১২–১৩ জনের একটি দল হামলায় অংশ নেয় বলে তিনি দাবি করেন।
আহত রাসেল বলেন, মোটরসাইকেলে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং পরে আরও কয়েকজন এসে মারধর করে। তিনি প্রাণ বাঁচাতে পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিলেও সেখানে ঢুকেও তাকে মারধর করা হয়।
এ ঘটনার খবর পেয়ে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা হাসপাতালে আহতকে দেখতে যান। সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত প্রার্থী মো. রাশেদুল ইসলাম নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন এবং লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।উল্লেখ্য, প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী শেরপুর-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রাশেদুল ইসলাম ১ লাখ ২৭ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা ৭৮ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন