ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা শেরপুর-১ (সদর) আসনের নির্বাচনী ফল নিয়ে আপত্তি তুলে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে ফল স্থগিত ও পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-র সাগর-রুনী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। প্রিয়াঙ্কা বলেন, নির্বাচনের ফলাফলে অসংগতি ও অনিয়মের বিষয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এ আবেদন করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হবেন।
নির্বাচনের বেসরকারি ফল অনুযায়ী, শেরপুর-১ আসনে রাশেদুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রিয়াঙ্কা পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৫২১ ভোট।
সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা অভিযোগ করেন, অনেক কেন্দ্রের ফলাফলের শিটে প্রিজাইডিং অফিসারের সই-সিল ছিল না এবং একাধিক ক্ষেত্রে পোলিং এজেন্টদের নাম, স্বাক্ষর ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর অনুপস্থিত ছিল। তার দাবি, কিছু কেন্দ্রে দলীয় কর্মীরাই প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কোথাও কোথাও প্রিজাইডিং অফিসার নিজেই পোলিং এজেন্টদের নাম ও স্বাক্ষর দিয়েছেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টের তথ্যবিহীন ভোট গণনার বিবরণী কীভাবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা গ্রহণ করেছেন। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে অনিয়মের তথ্য তুলে ধরতে গিয়ে কয়েকজন পোলিং এজেন্ট হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তার।
প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, অভিযোগগুলো জেলা প্রশাসনের কাছে জানানো হলেও যথাযথ প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বিএনপি সমর্থিত ভোটার বেশি এমন এলাকায় ভোটগ্রহণ ধীরগতিতে পরিচালনা, সংঘর্ষের পরিবেশ সৃষ্টি এবং কিছু কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, কয়েকটি কেন্দ্রে অস্বাভাবিকভাবে কম ভোট পাওয়া ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
দলের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে অবহিত করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে দল পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।


সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন