শেরপুরের দুই আসনে ৫ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত, ভোটের ব্যবধানে স্পষ্ট শক্তির হিসাব

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
শেরপুর জেলার দুটি সংসদীয় আসনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্ধারিত ভোটসংখ্যা অর্জন করতে না পারায় মোট পাঁচজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। এর মধ্যে শেরপুর-১ (সদর) আসনে তিনজন এবং শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে দুইজন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সংশ্লিষ্ট দুই আসনের ফলাফলে এ নিয়ম প্রযোজ্য হওয়ায় পাঁচজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।
শেরপুর-১ (সদর) আসন এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার ১৩৬টি; জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৪ হাজার ৩৯২ ভোট।
১ লাখ ২৭ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম।
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৩৪২ ভোট এবং বিএনপির বিদ্রোহী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪১৫ ভোট।
অপরদিকে, জাতীয় পার্টি প্রার্থী মাহমুদুল হক মনি (লাঙল) পেয়েছেন ৭৫১ ভোট, এনসিপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার লিখন মিয়া (শাপলা কলি) পেয়েছেন ৪৫৬ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইলিয়াস উদ্দিন (কাপ-পিরিচ) পেয়েছেন ২০৫ ভোট। নির্ধারিত ভোটসংখ্যা অর্জন করতে না পারায় এ তিনজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।
শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসন এ আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৭২২টি; জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ২৯ হাজার ৯০ ভোট। 
১ লাখ ১৮ হাজার ৪৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মু. গোলাম কিবরিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৪৫৬ ভোট।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েস (হাতপাখা) পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৭৭ ভোট এবং এবি পার্টি প্রার্থী আব্দুল্লাহ বাদশা (ঈগল) পেয়েছেন ১ হাজার ৩৮ ভোট। পর্যাপ্ত ভোট না পাওয়ায় এ দুই প্রার্থীর জামানতও বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।
নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুই আসনেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা থাকলেও অন্যান্য কয়েকজন প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভোটসংখ্যা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্তের ঘটনা ঘটেছে, যা আসন দুটিতে ভোটের শক্তির ভারসাম্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)