জামালপুরে গরু চোর সন্দেহে সালিসে অপমান; গৃহবধুর আত্মহত্যা

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
ছেলের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগ, কিন্তু তাকে না পেয়ে জোর করে শালিসে উপস্থিত করা হয় বাবাকে। বাধা দেন স্ত্রী জোসনা বেগম। যার কারনে গ্রাম্য সালিসে সবার সামনে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। অপমান সইতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আত্মহননের পথ বেছে নেন গৃহবধু। জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের খলিলহাটা গ্রামে বৃহস্পতিবার এই অমানবিক ঘটনা ঘটে। নিহত গৃবধুর নাম জোসনা বানু (৫০)। তিনি স্থানীয় সুরুজ আলীর স্ত্রী। এই ঘটনায় বর্তমানে সুরুজ আলী (৫৭), তোতা মিয়া (মঞ্জু) (৪৭) ও সোহেল রানা (৩২) নামের তিন ব্যক্তিকে ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রাখা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে খলিলহাটা এলাকায় ইউপি সদস্য নায়েব আলীর এক আত্মীয়ের গোয়াল ঘরে শব্দ হলে চুরির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীর সন্দেহ হয় প্রতিবেশী সুরুজ আলীর ছেলে সুজনসহ কয়েকজন চুরি করতে এসেছে। খবর পেয়ে মেম্বার নায়েব আলী লোকজন নিয়ে সুজনকে ধরতে তার বাড়িতে চড়াও হন। সুজনকে না পেয়ে তার বাবা সুরুজ আলীকে তুলে আনার চেষ্টা করলে মা জোসনা বানু বাধা দেন। এই ঘটনায় জোসনা বানুকে অপমান অপদস্ত করা হয়। যার কারনে সে নিজ ঘরে গিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে এর মধ্যেই আটক তিনজনকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য নায়েব আলী বলেন, চুরির অভিযোগে তিনজনকে গ্রামবাসী আটক করেছিল।
এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। অভিযুক্তরা খারাপ আচরণ করায় উপস্থিত লোকজন উত্তেজিত হয়ে কিছুটা মারধর করেছে। তাদের নিরাপত্তার কারনে আমি থামানোর চেষ্টা করেছি। ঘটনাটি ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হলে চেয়ারম্যান আটককৃতদেরকে পরিষদে নিয়ে যেতে বলেন। কেন্দুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, আমি ইউপি সদস্য ও চৌকিদারের মাধ্যমে গরু চুরির অভিযোগে গ্রামবাসীর মাধ্যমে তিনজনকে আটকের সংবাদ পেয়েছি। সেই সাথে একজন নারীর আত্মহত্যার সংবাদও পাই। যার কারনে আটককৃতদের নিরাপত্তার জন্য পরিষদে নিয়ে আসি। জামালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখনো কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুজনের বাবা সুরুজ আলী বলেন, আমাদের সাথে প্রতিবেশী নায়েব আলী পুলিশের পরিবারের মাঝে দীর্ঘদিন যাবৎ জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। যার কারনে তারা পরিকল্পিতভাবে আমি ও আমার ছেলেকে চোর বানানোর চেষ্টা করেছে। আমার ছেলের অতীতে চোরের কোন রেকর্ড নেই। তাহলে তারা কিভাবে আমার ছেলেকে চোর হিসেবে সন্দেহ করবে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)