শেরপুরে ঐতিহ্যের বন্ধনে একসূত্রে: সৈয়দ সিরাজুল হকের উত্তরসূরিদের বর্ণাঢ্য মিলনমেলা

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
শেরপুরের শতবর্ষী ঐতিহ্যের ধারক ‘মিয়াবাড়ি’ আবারও হয়ে উঠলো আত্মীয়তা, স্মৃতি আর গৌরবের মিলনস্থল। প্রখ্যাত ধর্মীয় নেতা ও সমাজসংগঠক সৈয়দ সিরাজুল হক (জান মিয়া)-এর উত্তরসূরিদের অংশগ্রহণে এক প্রাণবন্ত পারিবারিক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৩ মার্চ সোমবার শহরের মধ্যশেরীর ঐতিহ্যবাহী মিয়াবাড়িতে, প্রয়াত ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক অধ্যক্ষ সৈয়দ আব্দুল হান্নান (সাজু মিয়া)-এর বাসভবনে দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ-বিদেশ থেকে আগত তিন শতাধিক আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
পুনর্মিলনীতে বিচারপতি, সচিব, সেনা কর্মকর্তা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের গুণীজন অংশগ্রহণ করেন। সকাল ১০টায় আগমন ও চা-নাস্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর পারিবারিক পরিচিতি পর্ব, শুভেচ্ছা বিনিময়, নামাজ আদায় ও কবর জিয়ারত, মধ্যাহ্নভোজ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। দিনশেষে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী পর্ব।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, সৈয়দ সিরাজুল হক (জান মিয়া) ছিলেন শেরপুরের মুসলিম সমাজের এক প্রভাবশালী ও দূরদর্শী নেতা। সম্ভ্রান্ত সৈয়দ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই ব্যক্তিত্বের পিতা ছিলেন সৈয়দ মাইদান আলী। তাঁর পূর্বপুরুষরা ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে সুদূর সৌদি আরব থেকে এ অঞ্চলে আগমন করেন এবং তিনি সিলেটের বিখ্যাত সুফি সাধক শাহ চিনতি মাসুক (রহ.)-এর বংশধর হিসেবে পরিচিত।
১৯০৩ সালে শেরপুরের ঐতিহাসিক মাইসাহেবা জামে মসজিদ সম্প্রসারণ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে জান মিয়া বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তৎকালীন জমিদার রাধা বল্লভ চৌধুরীর বাধা সত্ত্বেও তিনি ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ-এর সহযোগিতায় মসজিদ সম্প্রসারণে সফল হন। শুধু তাই নয়, মসজিদের জমি রক্ষায় আইনি লড়াইয়েও তাঁর পরিবারের সাহসী ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
স্থানীয়দের মতে, জান মিয়া কেবল ধর্মীয় নেতা নন—তিনি ছিলেন মুসলিম সমাজের ঐক্যের প্রতীক। তাঁর নেতৃত্ব শেরপুরের মানুষের মধ্যে অধিকার আদায়ের চেতনা জাগিয়ে তোলে, যা আজও প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
বর্তমানে মাইসাহেবা জামে মসজিদ শেরপুরের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যেখানে একসঙ্গে কয়েক হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।
পুনর্মিলনীতে অংশ নেওয়া পরিবারের সদস্যরা জানান, নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পূর্বপুরুষদের অবদান তুলে ধরতেই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তারা।
এই মিলনমেলা যেন শুধুই একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান নয়—এটি হয়ে উঠেছিল ইতিহাস, ঐতিহ্য আর ভালোবাসার এক অনন্য সম্মিলন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)