শেরপুরে গারো পাহাড়ে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন অব্যাহত: ট্রাকসহ গ্রেপ্তার ২, উঠছে বন বিভাগের যোগসাজশের অভিযোগ

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন যেন থামছেই না। ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী ও শ্রীবরদী উপজেলার পাহাড়ি ছড়া ও নদী থেকে প্রতিনিয়ত বালু লোপাটের ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে স্থানীয়দের মাঝে। অভিযোগ উঠেছে, বন বিভাগের একাংশের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নীরব সহযোগিতায় এ অবৈধ কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গারো পাহাড় ঘিরে একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে উঠেছে, যারা প্রতিদিন শত শত ট্রলি ও ট্রাক ভর্তি বালু পরিবহন করছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে এসব বালু পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে সম্প্রতি পুলিশের তৎপরতায় কিছুটা নড়চড় দেখা গেছে। গত ১৭ মার্চ রাতে ঝিনাইগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে গজনী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় একটি ডাম্প ট্রাকভর্তি অবৈধ বালু জব্দ করা হয় এবং সাগর ও হাসমত নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ১৮ মার্চ আদালতে পাঠানো হয়।
এছাড়া ২২ মার্চ আরেক অভিযানে অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র এলাকা থেকে একটি বালুভর্তি ট্রলি আটক করেন পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)।
পরিবেশবিদ ও সচেতন মহল বলছেন, শুধুমাত্র শ্রমিক বা ট্রাক চালকদের গ্রেপ্তার করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পাহাড়ি ছড়া থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বাড়ছে।
তাদের মতে, বন বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা না থাকলে এভাবে ট্রাকভর্তি বালু পরিবহন সম্ভব নয়। ফলে এর পেছনে থাকা মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ঝিনাইগাতী থানার ওসি মো. আমিরুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালুসহ জড়িতদের আটক করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন—সংরক্ষিত বনাঞ্চলে যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশই কঠিন, সেখানে প্রতিনিয়ত কীভাবে ট্রাকভর্তি বালু বের হয়ে যাচ্ছে?
শেরপুরবাসীর দাবি, গারো পাহাড় রক্ষায় দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তা না হলে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ অচিরেই হুমকির মুখে পড়বে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)