“বিষাদের ঘোড়ার হ্রেষাধ্বনি, নীলকণ্ঠের গানে জাগুক শেরপুর: কবিতার মায়ায় এক সন্ধ্যার পুনর্জাগরণ”

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
শেরপুরের আকাশে সেদিন যেন শব্দ ছিল না—ছিল অনুভূতির ঢেউ। ছিল কবিতার মৃদু কম্পন, ছিল হৃদয়ের গভীর থেকে উঠে আসা উচ্চারণ। শব্দের শরীরে আবেগ জড়িয়ে, অনুভূতির রঙে রাঙিয়ে এক অনন্য সাহিত্য সন্ধ্যার জন্ম হলো শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে।কবি রফিকুল ইসলাম আধারের বহুল প্রতীক্ষিত দুটি কাব্যগ্রন্থ— ‘বিষাদের ঘোড়া’ ও ‘নীলকণ্ঠের গান’—এর মোড়ক উন্মোচন যেন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না; এটি ছিল এক ধরনের আত্মপ্রকাশ, এক নীরব বিপ্লব, এক সাহিত্যিক প্রত্যয়ের ঘোষণা।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, কবি-লেখক-কলামিস্ট কাকন রেজা তার বক্তব্যে যেন সময়ের বুক চিরে উচ্চারণ করলেন এক কঠিন সত্য—“আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে যতটা ধারণ করার কথা, ততটা পারিনি। তাই সাহিত্য আজও আমাদের কাছে কিছুটা দূরের আলোর মতো। কিন্তু এই আলো নিভে যায়নি—এখনও জ্বলছে, কিছু মানুষের নিরলস চেষ্টায়।”তার কণ্ঠে ছিল আক্ষেপ, আবার আশার দীপ্তিও। তিনি বিশ্বাস করেন—রফিকুল ইসলাম আধারের মতো মানুষের সাহিত্যপ্রেম, তার সংগঠকসুলভ প্রয়াস এবং নিরলস সৃষ্টিশীলতা যদি অব্যাহত থাকে, তবে শেরপুরের সাহিত্যাঙ্গন আবারও ফিরে পাবে তার হারানো উজ্জ্বলতা।মুখ্য আলোচক ড. সুধাময় দাস যেন কবিতার ভেতরের জীবনকে তুলে ধরলেন—“আধারের কবিতায় জীবন আছে, সময় আছে, হারিয়ে যাওয়া শব্দের পুনর্জন্ম আছে। প্রেম আছে, বিদ্রোহ আছে, প্রকৃতির নিঃশ্বাস আছে। তার কবিতা শুধু পড়ার নয়, অনুভব করার।”
কবি নিজেও ছিলেন বিনয়ী অথচ দৃঢ়। নিজের বক্তব্যে তিনি স্মরণ করলেন পথপ্রদর্শকদের—প্রয়াত কবি আব্দুর রেজ্জাক, মুহাম্মদ আবু বকর ও তালাত মাহমুদকে।তিনি বললেন—“আমি শুধু তাদের পথ অনুসরণ করছি। ব্যস্ত জীবনের ভেতর থেকেও লিখছি, কারণ সাহিত্যই আমাকে বাঁচিয়ে রাখে।”এরপর একে একে মঞ্চে উঠলেন কবিরা—কেউ আবৃত্তি করলেন, কেউ অনুভূতি জানালেন, কেউবা কবিতার ভেতর দিয়ে নিজের হৃদয়ের দরজা খুলে দিলেন। শব্দগুলো যেন মিলেমিশে তৈরি করলো এক সম্মিলিত আত্মা।দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টার এই আয়োজন শেষে যখন মোড়ক উন্মোচন হলো, তখন তা কেবল দুটি বইয়ের নয়—এটি ছিল শেরপুরের সাহিত্যস্বপ্নের, এটি ছিল এক সম্ভাব্য পুনর্জাগরণের।‘বিষাদের ঘোড়া’—৬৬টি কবিতায় বয়ে আনে অনুভূতির গভীর নদী, উৎসর্গ করা হয়েছে কবির পিতা মোহাম্মদ আলী মাস্টারকে।আর ‘নীলকণ্ঠের গান’—৬৭টি কবিতায় গেয়ে ওঠে জীবনের বহুরূপী সুর, উৎসর্গ কবি তালাত মাহমুদকে।প্রচ্ছদে তুলির আঁচড়ে প্রাণ দিয়েছেন চিত্রশিল্পী মোমিন উদ্দিন খালেদ, আর বই দুটি প্রকাশ করেছে নবসাহিত্য প্রকাশনী।শেষমেশ বলা যায়—সেদিন শেরপুরে শুধু একটি অনুষ্ঠান হয়নি,একটি স্বপ্ন জেগেছে—কবিতার, মানুষের, আর একদিন ফিরে আসা সেই হারানো সাহিত্যিক জোয়ারের। মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক স্পষ্টভাষী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সহযোগী অধ্যাপক মাসুদ হাসান বাদল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মহিউদ্দিন সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হানিফ এবং শেরপুর প্রেস ড্রাইভের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সাংবাদিক সহ প্রায় ৫০ জন কবি ও সাহিত্যিক উপস্থিত ছিলেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)