শেরপুরে রেস্ট হাউসকে ব্যক্তিগত বাসা বানালেন যুব উন্নয়ন উপ-পরিচালক

মোঃ সাইদুর রহমান সাদী
0
সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি।। 
শেরপুর জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে সরকারি রেস্ট হাউসকে ব্যক্তিগত আবাসিক ফ্ল্যাট হিসেবে ব্যবহার করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া ভাতা গ্রহণ করার পরও তিনি বছরের পর বছর ধরে ওই রেস্ট হাউসে বসবাস করছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, শেরপুর জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নুরুজ্জামান চৌধুরী ক্ষমতার অপব্যবহার করে কার্যালয়ের সরকারি রেস্ট হাউসের একটি কক্ষ দখল করে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন। অথচ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য পাঁচটি সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দ থাকলেও তিনি সেগুলো ব্যবহার না করে রেস্ট হাউসেই অবস্থান করছেন।
দাপ্তরিক বিধিমালা অনুযায়ী গেস্ট হাউস বা ডাকবাংলো মূলত সরকারি সফরে আগত কর্মকর্তাদের সাময়িক অবস্থানের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু নির্ধারিত কোয়ার্টার খালি রেখে রেস্ট হাউসকে স্থায়ী আবাসনে রূপান্তর করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, তিনি প্রতি সপ্তাহে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নিয়মিত সেখানে অবস্থান করেন। এমনকি রেস্ট হাউসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কক্ষকে ব্যক্তিগত রান্নাঘরে রূপান্তর করেছেন। সেখানে ফ্রিজ, মাইক্রোওভেন, গ্যাস সিলিন্ডার ও রান্নার চুলা ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারি স্থাপনার অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ২০১৮-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সরকারি বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য রেস্ট হাউসের দৈনিক ভাড়া ৫০ টাকা, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ১০০ টাকা এবং বেসরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ২০০ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। এর সঙ্গে ১৫ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত সার্ভিস চার্জও প্রযোজ্য।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রেস্ট হাউসের মুভমেন্ট রেজিস্টার বা লগবুকে তার দীর্ঘদিনের অবস্থানের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি। এমনকি নির্ধারিত ভাড়া সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কোনো রসিদ বা চালানের তথ্যও পাওয়া যায়নি।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিতভাবে সরকারি বেতন থেকে বাড়ি ভাড়া ভাতা উত্তোলন করছেন। সরকারি আবাসন নীতিমালা অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা সরকারি রেস্ট হাউস বা ডরমিটরিতে অবস্থান করলে তিনি বাড়ি ভাড়া ভাতা পাওয়ার অধিকারী নন। কিন্তু বাড়ি ভাড়া ভাতা গ্রহণের পাশাপাশি রেস্ট হাউসে বসবাস করার বিষয়টি রাষ্ট্রীয় অর্থ অপব্যবহারের শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও জানা গেছে, তিনি শেরপুরে কর্মরত থাকলেও পরিবারসহ ময়মনসিংহে বসবাস করেন। প্রতি সপ্তাহে রবিবার শেরপুরে এসে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অবস্থান করে আবার ময়মনসিংহে ফিরে যান। এই সময়ে তিনি কোনো ভাড়া বাসা ব্যবহার না করে সরকারি রেস্ট হাউসেই অবস্থান করেন।
এ বিষয়ে উপ-পরিচালক নুরুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো দাপ্তরিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, তিনি সেখানে অতিথি হিসেবে থাকেন এবং বিল পরিশোধ করেন। তবে অনুসন্ধানের সময় তার অনুমতি ছাড়া রেস্ট হাউসে প্রবেশ করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলা পর্যায়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডের ফলে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি সফরে আসা কর্মকর্তাদের আবাসন সংকট তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)