শেরপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় ও এমপির ভাতিজাদের বিরুদ্ধে জমি দখল ও লুটপাটের অভিযোগে মানববন্ধন

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
শেরপুরে জাল দলিল তৈরি করে পৈত্রিক ভিটেমাটি দখল, ঘরবাড়ি লুটপাট এবং জীবননাশের হুমকির বিরুদ্ধে এক অসহায় সিএনজি চালকের মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৫ই জুন সকালে শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী মোঃ মালেকুল ইসলাম পারভেজ সাংবাদিকদের সামনে তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এবং সুবিচারের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি ও প্রামাণ্য কাগজপত্র জমা দেন। এর আগে গত ১ এপ্রিল তিনি ন্যায়বিচারের আশায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও একটি লিখিত আবেদন পাঠান।
লিখিত বক্তব্যে শিববাড়ী মহল্লার বাসিন্দা ও পেশায় সিএনজি চালক মালেকুল ইসলাম পারভেজ জানান, ১৯৭২ সালে তার মা মৃত মালেকা খাতুনের নামে শেরপুর সদর নারায়ণপুর মৌজায় ২০ শতাংশ জমি সাব কবলা দলিল মূলে ক্রয় করা হয়। সেখানে তারা দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছিলেন।
অভিযোগ করা হয়, বিগত ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আপন ফুফাতো ভাই (১) একরাম শেরনিয়াবাত ও (২) কাইয়ুম শেরনিয়াবাত (উভয় পিতা মৃত আঃ ওয়াদুদ শেরনিয়াবাত) এবং সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এ.কে.এম ফজলুল হক চাঁনের আপন বড় ভাইয়ের ছেলে (৩) মোঃ রফিকুল ইসলাম সাজনুর একত্রিত হয়ে জাল দলিল তৈরি করে। এরপর তারা সংঘবদ্ধভাবে পারভেজের বৈমাত্রিক সৎ ভাইদের সাথে যোগসাজশে তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট এবং জমি দখল করে নেয়।
ভুক্তভোগী পারভেজ অত্যন্ত ক্ষোভ ও দুঃখের সাথে জানান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি ও তার মা ২০০৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে আদালতের বারান্দায় ঘুরছেন। শেরপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জজ আদালতে একটি মামলা (মামলা নং- ১৫০/৩, সত্য ঘোষণা) চলমান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যখনই কোনো বিচারক মামলাটির রায় বা বিচার কার্য শেষ করতে চান, তখনই রাজনৈতিক ও অবৈধ অর্থের প্রভাবে তাকে বদলি করে দেওয়া হতো।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আইনি লড়াই ও মানসিক অত্যাচারে আক্রান্ত হয়ে ২০২০ সালে পারভেজের মা কিডনি রোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসার অর্থ না থাকায় অবশেষে বিনা চিকিৎসায় তিনি মারা যান।
ঘটনার পর শেরপুর সদর থানায় মামলা করা হলেও (মামলা নং- ১২) তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের পক্ষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) প্রদান করেন বলে পারভেজ অভিযোগ করেন। বর্তমানে আসামিদের পেশিশক্তি ও অব্যাহত হুমকির মুখে পারভেজ প্রাণভয়ে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে জীবন কাটাচ্ছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, যেকোনো সময় ভূমিদস্যুরা তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলতে পারে।
মানববন্ধনে পারভেজ বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এবং আইনমন্ত্রীর নিকট আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও এমপির পরিবার যদি জাল দলিলের মাধ্যমে গরিব ও ছিন্নমূল মানুষের ভিটেমাটি কেড়ে নেয়, তবে সাধারণ মানুষ বিচারের জন্য কোথায় যাবে? আমি আমার মায়ের কেনা পৈত্রিক ভিটেমাটি ফেরত চাই এবং এই ভূমিদস্যুদের মুখোশ উন্মোচন করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।
মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগী পারভেজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পূর্বে থানায় দেওয়া ফাইনাল রিপোর্ট, পুলিশ সুপারের প্রতিবেদন, জেলা প্রশাসকের তদন্ত প্রতিবেদন, অধর্তব্য মামলার রিপোর্ট এবং আদালতের অর্ডার শিটসহ প্রয়োজনীয় সকল নথিপত্র জমা দেন। শেরপুরের সচেতন মহল ও সাধারণ নাগরিকরা এই অসহায় সিএনজি চালকের পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)