দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর অবহেলার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উন্নয়নের এক নতুন দিগন্তে পা রাখছে সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুর। রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে শেরপুরকে দেশের রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, সরকারি মেডিকেল কলেজের জায়গা নির্ধারণ এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজের কাজ শুরু হওয়া—সব মিলিয়ে শেরপুরে এখন উৎসবের আমেজ। তবে শেরপুরবাসী মনে করেন, আজকের এই দৃশ্যমান উন্নয়ন কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়; বরং এটি জেলার ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব সর্বদলীয় রাজনৈতিক ঐক্য, ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলন এবং শেরপুরের কৃতী সন্তান বর্তমান সেনাপ্রধানের আন্তরিক সদিচ্ছার ফসল। অষ্টমী তলা থেকে নওহাটা শেরপুর কাঁপানো সেই ঐতিহাসিক মানববন্ধন শেরপুরের এই সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল শেরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত সেই স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক মানববন্ধনে। জেলা শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত অর্থাৎ অষ্টমী তলা বাস স্ট্যান্ড হইতে নওহাটা চৌরাস্তা পর্যন্ত বিশাল এলাকা জুড়ে সাধারণ মানুষের যে অভূতপূর্ব সমাগম ঘটেছিল, তা ছিল শেরপুরের ইতিহাসে বিরল। উক্ত মানববন্ধনে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং আদিবাসী/উপজাতীয় সম্প্রদায়ের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তখনকার প্রতিশ্রুতি, আজকের এই বাস্তবায়ন যেভাবে এক সুতোয় গাঁথল নেতৃত্ব। সেদিনের সেই ঐতিহাসিক মানববন্ধনে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যারা "সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী" ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে শেরপুরবাসীর কাছে দাবি আদায়ের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আজ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তৎকালীন সময়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোহাম্মদ হযরত আলী মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে এই ন্যায্য দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন এবং আন্দোলনকে বেগবান করতে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সরকারি দল ও প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে শেরপুরের চারজন সংসদ সদস্য অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন তারা হচ্ছেন শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের এমপি মাহমুদুল হক রুবেল,শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী,সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ডা. সানসিলা জেব্রিন প্রিয়াঙ্কা,জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম তৎকালীন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেওয়া তাদের সেই প্রতিশ্রুতি আজ তারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন। তাদের জোরালো দাবি এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়নমুখী ভাবনার মেলবন্ধনেই আজ শেরপুরবাসী রেল স্টেশন পেতে যাচ্ছে। এই আন্দোলনের আরেকটি অনন্য দিক ছিল রাজনৈতিক সম্প্রীতি। তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা মেরুকরণ থাকলেও শেরপুরের স্বার্থে সবাই ছিলেন একাট্টা। তৎকালীন সময়ে আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা মামুনুর রহমান মামুন সহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সব ধরনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও ভিন্নতা ভুলে এই মানববন্ধনে অংশ নেন এবং রাজপথে নেতৃত্ব দেন। এই যৌথ নেতৃত্ব এবং সবার মিলেমিশে কাজ করার মানসিকতার কারণেই আজ শেরপুরের এত বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আলোর মুখ দেখছে। এই অন্যান্য ঐতিহাসিক মানববন্ধনের কর্ণধার শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি বিশিষ্ট কলামিস্ট কাকন রেজা, সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক মাসুদ হাসান বাদল,কার্যকরী সভাপতি কবি ও সাহিত্যিক রফিক মজিদ সহ সংগঠনের যাদের পরিশ্রমের আজকের এই অবদান কার্যকরী কমিটির সদস্যগণসহ সর্বস্তরের সাংবাদিকবৃন্দ। শেরপুরের এই শিক্ষাগত ও চিকিৎসা খাতের উন্নয়নে যুক্ত হয়েছে এক ঐতিহাসিক ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। শেরপুর জেলাবাসী অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সাথে মনে করেন, শেরপুরের সুযোগ্য সন্তান এবং বর্তমান বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জ্জামান-এর বিশেষ উদ্যোগ ও আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই আজ শেরপুরের উন্নয়ন এত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
ওনার দূরদর্শী পদক্ষেপে ইতিমধ্যেই শেরপুর জেলায় একটি পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি অত্যাধুনিক আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ সরকারি মেডিকেল কলেজের জন্য জায়গা নির্ধারণের কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম কর্তৃক শেরপুরসহ ১০ জেলায় রেললাইন সম্প্রসারণের চূড়ান্ত ঘোষণার পর পুরো জেলায় আনন্দের জোয়ার বইছে।স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতাদের দেওয়া কথা রাখা, সর্বদলীয় ঐক্য, রাজপথের গণ-আন্দোলন এবং সেনাপ্রধানের বিশেষ অবদানের এই সমন্বিত রূপই আজকের এই বদলে যাওয়া শেরপুর। এই প্রকল্পগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ক্ষেত্রে শেরপুর দেশের অন্যতম শীর্ষ মডেল জেলায় পরিণত হবে।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন