![]() |
| \ মোঃ রাশেদুর রহমান রাসেল \ |
সাম্প্রতিককালে জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভুয়া সাংবাদিকদের ক্রমবর্ধমান সমস্যা একটি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এসব ভুয়া সাংবাদিকরা সাংবাদিকতার পেশার সুনামকে নষ্ট করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। প্রকৃত সাংবাদিকতার আদর্শ এবং নীতিমালা থেকে বিচ্যুত এই ব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য নানা ধরনের অপকর্ম করে যাচ্ছে। ভুয়া সাংবাদিকদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকদের ওপর আস্থা কমে যাচ্ছে এবং পেশার মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
ভুয়া সাংবাদিকদের কার্যক্রম : ভুয়া সাংবাদিকদের একাংশ স্থানীয় বা জাতীয় মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করে নিজেদের অবৈধ কাজকর্ম পরিচালনা করছে। অনেক সময় তাদের কাছে ভুয়া পরিচয়পত্র থাকে, যা তারা ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য বা বেআইনি সুবিধা আদায়ের জন্য ব্যবহার করে। এইসব ভুয়া সাংবাদিকদের লক্ষ্য সাধারণত এমন ব্যবসায়ী বা ব্যক্তি যারা তাদের চাপের মুখে সহজেই অর্থ প্রদান করতে বাধ্য হন। তারা অনেক সময় মিথ্যা খবর প্রকাশের হুমকি দিয়ে এবং অপপ্রচারের ভয় দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে।
সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও ভুয়া সাংবাদিকতার প্রভাব : সাংবাদিকতা একটি নৈতিকতা ও আদর্শনির্ভর পেশা, যেখানে সত্য, নিরপেক্ষতা এবং মানুষের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভুয়া সাংবাদিকরা যখন তাদের স্বার্থে অসত্য খবর ছড়িয়ে দেয়, তখন এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং সমাজে অস্থিতিশীলতা বেড়ে যায়। প্রকৃত সাংবাদিকরা, যারা সমাজে সঠিক তথ্য পৌঁছানোর জন্য কাজ করছেন, তারা এইসব ভুয়া সাংবাদিকদের কারণে হয়রানির শিকার হন। সাধারণ জনগণও প্রকৃত সাংবাদিকদের সংবাদকে সন্দেহের চোখে দেখছে এবং তাদের ওপর আস্থা হারাচ্ছে। ভুয়া সাংবাদিকদের কর্মকাণ্ড প্রকৃত সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকে কঠিন করে তুলেছে।
প্রশাসনিক ও সামাজিক পদক্ষেপ : এই সমস্যার সমাধানে প্রশাসন ও সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
১. প্রেস ক্লাব এবং মিডিয়া সংস্থাগুলোর নজরদারি: স্থানীয় প্রেস ক্লাব ও মিডিয়া সংস্থাগুলোর উচিত তাদের সদস্যদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং শুধুমাত্র প্রকৃত সাংবাদিকদের সদস্যপদ প্রদান করা।
২. সরকারি অনুমোদনপত্র ও পরিচয়পত্র: সরকারিভাবে সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র প্রদান করা এবং এ ধরনের পরিচয়পত্রের ডিজিটাল যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে ভুয়া সাংবাদিকদের শনাক্ত করা সহজ হয়।
৩. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তা: পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ভুয়া সাংবাদিকতা প্রতিরোধে নির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন এবং তার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
৪. জনসচেতনতা বৃদ্ধি: সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে তারা ভুয়া সাংবাদিকদের চিনতে পারেন এবং প্রতারিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পান। সামাজিক মাধ্যমেও এই বিষয়ে প্রচারণা চালানো যেতে পারে।
৫. শাস্তির ব্যবস্থা: ভুয়া সাংবাদিকতা প্রতিরোধে নির্দিষ্ট শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। যারা নিজেদের মিথ্যা পরিচয়ে সমাজকে বিভ্রান্ত করছে, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করতে হবে।
ভুয়া সাংবাদিকদের কারণে সাংবাদিকতা পেশা আজ হুমকির মুখে। প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষা করতে এবং সাংবাদিকতার সঠিক চর্চা নিশ্চিত করতে, এই ধরনের ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এজন্য সরকার, প্রশাসন, সংবাদমাধ্যম এবং সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে সমাজে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করা যায় এবং সাংবাদিকতার প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা যায়।
লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন, জামালপুর।

.jpg)
সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন