শেরপুর সীমান্তে চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য, ৭ মাসে ১২ সাংবাদিকের ওপর হামলা

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
সুলতান আহমেদ ময়না, (শেরপুর প্রতিনিধি) ।।
শেরপুর জেলায় সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় বালু ও পাথর উত্তোলন, মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের এক আলাদা রাজ্য গড়ে উঠেছে।
অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে প্রশ্ন করায় বিক্ষুব্ধরা সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায়।
ভারতের মেঘালয় রাজ্য ঘেঁষা শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী তিন উপজেলার অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য চরম আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এসব চোরাকারবারিদের থামাতে সীমান্তের বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে সীমান্তের ওপার থেকে নিয়ে আসা পণ্য আটক এবং বহনকারীদের গ্রেপ্তার করেও থামছে না তাদের দৌরাত্ম্য।
সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন, মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের যেন এক আলাদা রাজ্য গড়ে উঠেছে।
অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন এবং ভারতের মেঘালয় সীমান্তের ওপার থেকে বিভিন্ন মাদক ও প্রসাধনী পণ্য আসার বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে।
চোরাকারবারিদের গডফাদার ৭ মাসে ১২ জন সাংবাদিক ওপর হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এসব হামলার ঘটনা মামলার পাশাপাশি স্থানীয় প্রেসক্লাব এবং সাংবাদিক নেতারা প্রতিবাদ ও নানা কর্মসূচি পালন করে আসলেও চোরাকারবারিরা থামেনি।
মামলার পরপরই তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে এনে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং কেউ কেউ শোডাউন করে জানান দিচ্ছে তাদের শক্তিমত্তার কথা।
চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি রাতে জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কর্ণঝোড়া মেঘাদল বাজার মোডে অবৈধ মাদকের চালানের ভিডিও করতে গেলে চারজন সাংবাদিকের গাড়ি বহরে হামলা চালায় ডন মাসুদ ওরফে বালু মাসুদ নামে এক চোরাকারবারির সাঙ্গপাঙ্গরা।
৯ মে শুক্রবার বিকালে নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও স্থলবন্দর থেকে সংবাদ সংগ্রহ শেষে শেরপুর ফেরার পথে নালিতাবাড়ী বাইপাস চৌরাস্তা এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হন দেশ রূপান্তরের জেলা প্রতিনিধি শফিউল আলম সম্রাট।
২৬ মে জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার কাটাবাড়ি পাহাড়ি এলাকায় সম্ভাব্য হাতির অবাশ্রমের স্থান পরিদর্শনে আসেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
এসময় স্থানীয় সাংবাদিকরা অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে প্রশ্ন করায় বিক্ষুব্ধ হয় স্থানীয় চোরাকারবারির গডফাদার মিজান চেয়ারম্যান। পরে উপদেষ্টার গাড়ি চলে যাওয়ার সময় পেছনে থাকা সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায় মিজান চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনী। এতে আহত হয় ছয় সাংবাদিক।
১৫ আগস্ট রাতে জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সন্ধ্যাকূড়া সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার গুরুতর আহত হন দৈনিক ইত্তেফাকের উপজেলা প্রতিনিধি মো. খোরশেদ আলম। বর্তমানে সে শেরপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যেকটি ঘটনা পৃথক মামলা দায়ের করা হলে দু-একটিতে কেউ কেউ গ্রেপ্তার হলেও আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসছে সহজেই। আবার কেউ কেউ উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে এসে এলাকায় মোটরসাইকেল দিয়ে শোডাউন করেছে।
এসব চোরাকারবারিদের বিষয়ে স্থানীয় মানুষ বিভিন্ন সময়ে তাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলেও তাদের দৌরাত্ম্য একটুও কমেনি।
জেলার সচেতন মহল মনে করছেন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষা শেরপুরের ৩ উপজেলার প্রায় ৪২ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক যেন বিচ্ছিন্ন জনপথ। যেখানে চোরাকারবারিদের উৎসব চলছে।
এ বিষয়ে শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল বলেন, “সাংবাদিকদের হত্যা নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা আমাদের কাজ করবো। সরকার ও আইন রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ রক্ষা করতে না পারলে রাষ্ট্র ও আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ক্ষমতাওয়ালারা নিজেরা আয়নায় চেহারা দেখতে পারবে না।”
তিনি বলেন, “শেরপুরে প্রতিটি ঘটনার মামলা হয়েছে। কেউ কেউ ধরাও পড়েছে। কিন্তু বন ও পরিবেশ উপদেষ্টার সামনে সাংবাদিকদের যেভাবে মারপিট করা হয়েছে তা দুঃখজনক। আরও দুঃখজনক মামলার আসামি দুর্দান্ত প্রতাপশালী মিজান চেয়ারম্যান এখনও ধরা-ছোয়ার বাইরে।”
এ বিষয়ে শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “সাংবাদিকদের প্রতিটি ঘটনার মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের ধরে পুলিশ আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এখানে জিরো টলারেন্স।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)