শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মসজিদে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা ইমামকে হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এক ব্যক্তি গুরুতর জখম হয়েছেন।
জানা যায়, শনিবার (১ নভেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার উত্তর বাতকুচি সাকিনের ফরেস্টার অফিসসংলগ্ন বাইতুল নূর জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আশরাফ আলী (৪০), পিতা মৃত নূর ইসলাম, সাং-বাতকুচি, থানা-নালিতাবাড়ী, জেলা-শেরপুর, নালিতাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, স্থানীয় দাঙ্গাবাজ ও দুর্ধর্ষ প্রকৃতির তিন ব্যক্তি — ফরহাদ মিয়া (৩২), রুবেল মিয়া (২৩) ও ফারুক মিয়া (৩৭), পিতা মো. জহুর উদ্দিন — ঘটনাস্থলে প্রবেশ করে মসজিদের ইমাম মো. শফিকুল ইসলামকে হুমকি দেয়। তারা বলে, “আজ থেকে এই মসজিদে আর আযান হবে না, আমার অনুমতি ছাড়া কেউ আযান দিতে পারবে না।”
ইমাম প্রতিবাদ করলে বিবাদীরা তাঁকে হত্যার হুমকি দেয় এবং পালাতে বাধ্য করে। পরে তারা মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে মাইক সেট, বৈদ্যুতিক বোর্ড, টিনের বেড়া ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
এ সময় স্থানীয় হাবিবুর রহমান (৫১) ও কাজল মিয়া (২৮) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাধা দিলে হামলাকারীরা তাদের ওপর চড়াও হয়। ধারালো দা দিয়ে কাজল মিয়াকে কোপ মারলে তাঁর বাম হাতে গুরুতর জখম হয়। দুইজনকেই এলোপাথারি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।
তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে হত্যার হুমকি দিয়ে পার্শ্ববর্তী ঘরের টিনের বেড়া কেটে ক্ষতি সাধন করে পালিয়ে যায়।
পরে আহত কাজল মিয়াকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
অভিযোগকারী আশরাফ আলী বলেন, “এ ঘটনায় আমরা অত্যন্ত আতঙ্কিত। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
নালিতাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন