জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নির্মিত ৩৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ৩১টির ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ক্লিনিকগুলোর ভবনের চারপাশের দেওয়ালে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ ও ফাটল ধরেছে। ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও মেঝে দেবে গেছে। পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনেই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু এসব মেরামতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো উদ্যোগ নেই। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে মাদারগঞ্জ উপজেলায় ৩৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়। ইতিমধ্যে ৩৭টি ভবনের মধ্যে ১৬টিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, ১৫টি মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬টি কম ঝুঁকিপূণ হিসেবে ঘোষণা করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের কোয়ালিকান্দি, চরপাকেরদহ, বীর পাকেরদহ, কড়ইচড়া ইউনিয়নের পূর্ব নলছিয়া, গড়পাড়া, গুনারীতলা ইউনিয়নের গোপালপুর, জোনাইল নয়াপাড়া, বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া, পশ্চিম সুখনগরী, জোড়খালী ইউনিয়নের দিঘলকান্দী, জামদহ, আদারভিটা ইউনিয়নের দুধিয়াগাছা, বাশদাইড়, সিধুলী ইউনিয়নের হাটবাড়ী এবং চরলোটাবর কমিউনিটি ক্লিনিকের অবস্থা নাজুক। এসব ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুইশত মানুষ সেবা নেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব ভবনে কোনো ধরনের সংস্কার কাজ হয়নি। ফলে অনেক ভবনের ছাদ ও দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। কোথাও ফাটল ধরেছে, কোথাও কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। দরজা-জানালার অবস্থাও নাজুক।
তারতাপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা বৃদ্ধ জয়নাল আবেদীন বলেন, ক্লিনিকের অবস্থা ভালো না। ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। আমাদের ক্লিনিকের ছাদটা যদি দ্রুত সময়ে ঠিক না করে তাহলে যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা আছে। আমরা এখানে ভালো সেবা পাই, তাই আমরা ক্লিনিকটা সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।
হাটবাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ইউনুছ আলী বলেন, মাঝেমধ্যে ক্লিনিক ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সব সময় আতঙ্ক নিয়ে কাজ করতে হয়। বর্ষাকালে টানা বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। এতে ওষুধসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টির সময় অনেক সময় ক্লিনিক ছেড়ে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়। ইদানীং ভূমিকম্পের আশঙ্কা থাকায় আমরা আতঙ্কে থাকি; কখন আবার ভবন ধসে পড়ে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনগুলোর অবস্থা খারাপ হয়েছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে জরাজীর্ণ ভবনগুলো পুনর্র্নিমাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন