ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রচারণার প্রথম দিনেই শেরপুরে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের জনসভায় নামে মানুষের ঢল।
জনভোগান্তি এড়াতে শেরপুর জেলা বিএনপি শহরের বাইরে শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্কে এ জনসভার আয়োজন করে। দুপুর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সভাস্থলে উপস্থিত হন। পুরো মাঠ মুহূর্তেই জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শেরপুর সদর আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা।
বিশেষ অতিথি ও আলোচকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি শেরপুর সদর বিএনপির আহ্বায়ক হযরত আলী, শেরপুর শহর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান পিপি, শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও থানা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক আবু রায়হান রুপন, শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক কামরুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা, শহর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।
ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে আমি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান যে দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন, তা মাথা পেতে গ্রহণ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আজ আমি কোনো বক্তব্য দিতে আসিনি। শাসক বা প্রশাসক নয়, আপনাদের সেবক হিসেবে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে এই জনসমুদ্রে দাঁড়িয়েছি। যারা ভোট দিয়ে তাদের সেবক নির্বাচিত করবেন, তাদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা।”
তিনি জানান, তারেক রহমান নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।
“তার সেই স্বপ্নের সঙ্গে শেরপুরের মানুষের মতামত যুক্ত করে আমরা একটি সুশৃঙ্খল, সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক মুক্তির পরিকল্পনা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।”
ডা. প্রিয়াংকা আরো বলেন, “অতীতে ভুল হয়ে থাকলে তার জন্য ক্ষমা চাইতে দাঁড়িয়েছি। নির্বাচিত হতে পারলে একটি শান্তির শেরপুর গড়ে তুলবো। কোনো অপরাধী—সে আমার দলের, মতের বা আত্মীয়ই হোক—কোনো ছাড় পাবে না।”
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় শত বাধা এলেও পিছপা হবো না। আপনাদের সঙ্গে নিয়েই অপরাধ ও জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সব জায়গায় যেতে পারবো না। যারা আজ এখানে এসেছেন, তারা আমার হয়ে, দলের হয়ে মানুষের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দেবেন।”
শেরপুরকে ‘ইতিহাসের উপেক্ষিত সীমান্ত কন্যা’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, “এখানে যেন কোনো জালেম, দখলবাজ ও অত্যাচারী সৃষ্টি না হয়। কোনো মজলুম যেন না থাকে। উন্নয়ন ও সমতার শেরপুর গড়তে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।”
শেষে বিভ্রান্ত ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দল ও দেশকে ভালোবেসে আসুন, ধানের শীষের পক্ষে কাজ করি।” ডা. প্রিয়াংকার বক্তব্য চলাকালে পুরো মাঠ ধানের শীষের পক্ষে মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন