শেরপুরের নকলা উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে বাবার হাতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে তার চার বছরের ছোট বোন। আহত শিশুটিকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) ভোররাতে নকলা উপজেলার চরঅষ্টধর ইউনিয়নের চরবসন্তী গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ শিশু দুটির বাবা বাবু মিয়া (৩৫) কে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার বাবা রবি মিয়া (৫৮) কে থানায় আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবি মিয়ার ছেলে বাবু মিয়ার সঙ্গে প্রায় সাত বছর আগে উরফা ইউনিয়নের শালখা গ্রামের দিনমজুর কাজীমদ্দিনের মেয়ে হাসিনা বেগমের (২৭) বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের দুই কন্যাসন্তান—মরিয়ম (৬) ও মীম (৪)।
কিছুদিন ধরে বাবু মিয়া স্ত্রী, সন্তান ও বাবা-মাকে নিয়ে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। গত ১২ জানুয়ারি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান তিনি। পরদিন নিজ বাড়ি ঘুরে সেদিনই স্ত্রী ও সন্তানদের আবার শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
পরবর্তীতে বাবু মিয়া ভ্যানগাড়ি কেনার কথা বলে শ্বশুর কাজীমদ্দিনের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। শ্বশুর তিন হাজার টাকা দিলে এ নিয়ে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে বাবু মিয়া শিশু দুটিকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে ঢাকায় ফিরে যান।
পুলিশ জানায়, শনিবার বিকেলে বাবু মিয়া তার বাবা-মা ও দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়িতে আসেন। রাতের কোনো একসময় ঘরের ভেতর বড় মেয়ে মরিয়মকে হত্যা এবং ছোট মেয়ে মীমকে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা বাবু মিয়াকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। আহত মীমকে প্রথমে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান।
নিহত শিশুর নানীঘরের স্বজন কাজীমদ্দিন বলেন, “ভোরে খবর পেয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে নাতনি মরিয়মকে মৃত এবং মীমকে আহত অবস্থায় দেখতে পাই। তখন এলাকাবাসী বাবুকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছিল।”
নকলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কাশেম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করেছে। অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক কলহজনিত ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, আহত শিশু মীমের অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন