শেরপুরে ভুয়া বিল-ভাউচারে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক হুইপ আতিকের মেয়ে ডা. অমির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

মোঃ সাইদুর রহমান সাদী
0
শেরপুর জেলা প্রতিনিধি।। 
ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শেরপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন রহমান অমির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, জামালপুরের উপসহকারী পরিচালক আতিউর রহমান বাদী হয়ে শেরপুর সিনিয়র স্পেশাল ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি করেন।
মঙ্গলবার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের জামালপুর ও শেরপুর অঞ্চলের স্পেশাল জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মোখলেছুর রহমান জীবন। মামলার আসামি ডা. শারমিন রহমান অমি শেরপুর সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ আতিউর রহমান আতিকের মেয়ে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ডা. শারমিন রহমান অমি ২০১৯ সালের ৮ মে মেডিকেল অফিসার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন এবং একই বছরের ২৬ আগস্ট শেরপুরে পদায়ন পান। বাবার রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি একই সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯–২০ ও ২০২০–২১ অর্থবছরে শেরপুর সদর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নলকূপ স্থাপনের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে নলকূপ ক্রয় ও স্থাপন না করে শেরপুরের নয়ানী বাজারের মেসার্স ফাগুন মেশিনারির নামে ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন ডা. অমি।
এছাড়াও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব), মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) এবং মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এমএসআর, ওষুধ ও প্রতিষেধক খাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ভাউচার ব্যবহার করে আরও ৯ লাখ ১১ হাজার ২৪৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—মুকুল মেডিকেল হল অ্যান্ড সার্জিক্যাল, সূরধ্বনি মেডিকেল, সাহা মেডিকেল, শাহীন ফার্মেসি, তালুকদার ফার্মেসি এবং শ্রীবর্দী উপজেলার বাসার ড্রাগস অ্যান্ড মেডিসিন কর্নার।
এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের শেরপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক নিরঞ্জন বন্ধু ধাম জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগ থেকেই ডা. শারমিন রহমান অমি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। সরকারি বিধি অনুযায়ী মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার শোকজ নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে।
দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় জামালপুরের সহকারী পরিচালক আতিউর রহমান বলেন, “সাবেক সংসদ সদস্য বাবার প্রভাব কাজে লাগিয়ে একাধিক পদে দায়িত্বে থেকে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন ডা. শারমিন রহমান অমি। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।”
অভিযুক্ত ডা. শারমিন রহমান অমির বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগেই তিনি দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)