শেরপুরে শিশু অপহরণ ও মুক্তিপণ মামলায় পলাতক আসামির যাবজ্জীবনসহ ৫ জনের সাজা

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায় শিশু অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির একটি চাঞ্চল্যকর মামলায় পলাতক প্রধান আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডসহ মোট পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একজন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটে নালিতাবাড়ী উপজেলার এক শিশুকে তার বসতবাড়ির পূর্ব পাশের রাস্তায় খেলার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি নির্বাচনী পোস্টারের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণের চেষ্টা করে। শিশুটি মোটরসাইকেলে উঠতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা পরে কৌশলে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে শিশুটির সন্ধান না পেয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার নালিতাবাড়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৫৭ মিনিট থেকে রাত ১১টা ২৩ মিনিটের মধ্যে একটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ফোন করে জানানো হয়—শিশুটিকে জীবিত ফিরে পেতে হলে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে, অন্যথায় শিশুটির লাশ টুকরো করে পাঠানো হবে।
পরে পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে নকলা থানার ডাকাতিয়াকান্দা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা শিশুটিকে একটি কাঁচা রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়। শিশুটিকে পরে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
আদালতের রায়ে
দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায়—
পলাতক আসামি মোঃ মনির হোসেন (২২)-কে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
অপর চার আসামি
আলামিন ও মোখলেছ (২১),
জমির উদ্দিন (৫৫),
মাজহারুল ইসলাম মহসীন (২২) —কে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৭/৩০ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
আদালত সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের জেলা কারাগার, শেরপুরে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় মনিরুল ইসলাম লিটন নামের এক আসামিকে মামলা থেকে খালাস প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর আশরাফুল্লাহ বলেন, “এটি একটি নৃশংস শিশু অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি সংক্রান্ত মামলা। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এ রায় সমাজে শিশু অপহরণকারীদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
অন্যান্য আদেশ
আদালত আরও আদেশ দেন— পলাতক আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে। দণ্ডিত আসামিরা পূর্বে হাজতবাস করলে তা সাজা থেকে বাদ যাবে। জব্দকৃত আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে। রায়ের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী দপ্তরে প্রেরণ করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)