ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি: মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষের ফলাফল প্রদর্শন মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
আজ ১৮-০২-২০২৬ ইং, রোজ বুধবার জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়ন এর মৌহাডাংগা উত্তরপাড়া গ্রামে ওয়াসিম মেম্বারের বাড়িতে দিনব্যাপী উৎপাদক দলের সদস্যদের নিয়ে “ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি: মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষের ফলাফল প্রদর্শন” শীর্ষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত মাঠ দিবস অস্ট্রেলিয়ান সরকারের সহায়তায় Australian NGO Cooperation Program (ANCP)–এর অর্থায়নে “Gender Inclusive Market Systems for Improved Nutrition (GESMIN)” প্রকল্পের আওতায় World Vision Bangladesh ও উন্নয়ন সংঘ যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মৌহাডাংগা উত্তরপাড়া নারী উৎপাদক দলের সহ-সম্পাদক মালেকা বেগম।
মাঠ দিবসে উপস্থিত ছিলেন উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. ফরিদুল ইসলাম ও পলি খাতুন, কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব-সহকারী শেলী আক্তার, ইউপি সদস্য বেদেনা বেগম ও লুৎফা বেগম,উৎপাদক দলের সদস্যবৃন্দ,জেসমিন প্রকল্পের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা।
এছাড়া মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষ করা প্রদর্শনী কৃষাণী আছমা বেগম ও তাঁর স্বামী নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. ফরিদুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘসময় ধরে রাখা যায়, আগাছা কম জন্মায় এবং সেচের খরচ কমে। এতে ফলন বৃদ্ধি পায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কৃষকরা সক্ষম হন।”
তিনি আরও বলেন, “এর পাশাপাশি মালচিং ব্যবহারে—
মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, ফলে গাছের শিকড় দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
সার প্রয়োগের কার্যকারিতা বাড়ে এবং পুষ্টি উপাদানের অপচয় কম হয়।
অতিবৃষ্টি হলে মাটির ক্ষয় কম হয়।
ফল মাটির সরাসরি সংস্পর্শে না থাকায় পচন ও রোগের আক্রমণ কমে।
শ্রম খরচ কম লাগে, কারণ আগাছা পরিষ্কার কম করতে হয়।
জমি দীর্ঘসময় উৎপাদন উপযোগী থাকে।
শুষ্ক মৌসুমেও চাষাবাদ করা সহজ হয়।”
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “মালচিং প্লাস্টিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক ব্যবস্থাপনা না করলে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি থাকে। তাই ব্যবহারের পর সঠিকভাবে অপসারণ ও সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষ করা কৃষাণী আছমা বেগম বলেন, “আগে সাধারণ পদ্ধতিতে চাষ করে তেমন লাভ হতো না। এবার মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে গাছ ভালো হয়েছে, আগাছা কম হয়েছে,সেচ কম লেগেছে এবং মরিচের ফলনও বেশি পেয়েছি।” তাঁর স্বামী নজরুল ইসলাম জানান, “খরচ কিছুটা বেশি হলেও উৎপাদন বেশি হওয়ায় লাভজনক হয়েছে।”
মাঠ দিবসের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে জেসমিন প্রকল্পের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা বলেন, “এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক ও জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির সাথে পরিচিত করা এবং বাজারমুখী উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করাই আমাদের লক্ষ্য।”এতে কৃষকের খরচ কম হবে ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার পাশাপাশি সংস্থার পরিচিতি, প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, ডোনার সংক্রান্ত তথ্য, শিশু ও নারী সুরক্ষা আচার-আচরণবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ে আলোচনা করেন কমিউনিটি ফেসিলিটেটর মাসুদ রানা। তিনি বলেন, “নারী ও শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা আমাদের অঙ্গীকার।”
মাঠ দিবসে আরো সার্বিক সহযোগিতা করেন কমিউনিটি ফেসিলিটেটর তৃপ্তি খাতুন ও নীলা আক্তার। দিনব্যাপী এই আয়োজনে উৎপাদক দলের সদস্যরা মালচিং পদ্ধতিতে মরিচ চাষের বাস্তব ফলাফল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন ও আগামি বছরে মালচিং পদ্ধতিতে কমপক্ষে দশ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করবে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)