শেরপুর সদর উপজেলার চাপাতলী এলাকায় জমি বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ দুজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন মোঃ আতাউর রহমান লেবু (৫০) ও তার স্ত্রী মোছাঃ রত্মা বেগম (৪২)। আহতদের শেরপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চাপাতলী গ্রামের বাসিন্দা আতাউর রহমান লেবু প্রায় ২ থেকে ৩ বছর আগে অভিযুক্তদের পরিবারের কাছ থেকে সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে একটি জমি ক্রয় করেন এবং মাপজোক করে তা বুঝে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু কিছুদিন ধরে অভিযুক্তরা ওই জমিতে তাকে বাধা প্রদান করে এবং জমি বিক্রি করতে হলে তাদেরকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে বলে চাপ সৃষ্টি করে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১৩ মার্চ ২০২৬ বিকাল আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে তিনি তার জমির একটি প্লট বিক্রির উদ্দেশ্যে একজন ক্রেতাকে নিয়ে জমিতে গেলে অভিযুক্তরা লাঠি, লোহার রড ও শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে সেখানে উপস্থিত হয়ে হামলা চালায়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে চাপাতলী গ্রামের রাজু মিয়া (৩২), আব্দুল লতিফ শরু মিয়া (৫৫), ময়না মিয়া (৩০), আইরিন বেগম (২৮) ও লুৎফা বেগম (২৫) সহ আরও ২/৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে।
আতাউর রহমান লেবু অভিযোগ করেন, হামলার সময় ২ নম্বর আসামির নির্দেশে ১ নম্বর আসামি শাবল দিয়ে তার পেটে আঘাত করার চেষ্টা করে। তিনি সরে গেলে আঘাতটি তার ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে লাগে এবং এতে আঙুলে গুরুতর কাটা জখম হয় ও নখ উঠে যায়। পরে ৩ নম্বর আসামি লোহার রড দিয়ে তার বাম পায়ের পাতায় আঘাত করলে আঙুলে হাড় ভেঙে যায় বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া অন্য আসামিরা তাকে কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।
স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার স্ত্রী রত্মা বেগমকেও মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয় এবং তার পরিহিত কাপড় টানাহেঁচড়া করে ছিঁড়ে ফেলা হয়।
পরে আশপাশের লোকজন ও স্থানীয় কয়েকজন সাক্ষী ঘটনাস্থলে এসে আহতদের উদ্ধার করে শেরপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে আতাউর রহমান লেবুকে ভর্তি করা হয় এবং তার স্ত্রী প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এ ঘটনায় আতাউর রহমান লেবু শেরপুর সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সাক্ষী হিসেবে রত্মা বেগম (৪২), আবু মিয়া (৪৭), সাদা মিয়া (৪০) ও সোবাহান মিয়া (৩৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে শেরপুর সদর থানার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন