শেরপুর জেলা শহরের ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় বিপজ্জনকভাবে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুত করে জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শহরের মুন্সি বাজার গোয়ালপট্টি গোপালবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স শিমলা ট্রেডার্স’-এ অভিযান চালিয়ে এ দণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোয়েন্দা বিভাগের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে একটি আবাসিক ভবনের নিচতলায় প্রায় ২৭ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি বিশাল ট্যাংকে প্রায় ১৮ হাজার লিটার ডিজেল ও কেরোসিন মজুত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। বিশেষভাবে স্থাপিত পাইপলাইনের মাধ্যমে তেলবাহী ট্রাক থেকে তেল নিষ্কাশনের দৃশ্য গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসলে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তদন্তে আরও দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির খুচরা বিক্রির লাইসেন্স থাকলেও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক এলাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণভাবে জ্বালানি ব্যবসা পরিচালনা করায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযানকালে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর ২০ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক তাপস নন্দীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে মজুতকৃত তেল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে ওই আবাসিক ভবনে জ্বালানি ব্যবসা স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “আবাসিক এলাকায় এত বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। আইন অমান্য করে ব্যবসা পরিচালনার প্রমাণ পাওয়ায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ৪০-৪৫ বছর ধরে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছে। খুচরা লাইসেন্সের ঠিকানা শহর থেকে দুরে ভাতশালা ইউনিয়নের কানাশাখোলা অন্য এলাকায় হলেও শহরের মধ্যে বড় মেশিন বসিয়ে পাম্পের মতো করে তেল বিক্রি করা হচ্ছিল, যা সম্পূর্ণ অনিয়ম।
অভিযানকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার, সহকারী কমিশনার সেলিম রেজা, শেরপুর সদর থানার ওসি সোহেল রানা এবং ডিএসবি’র ডিওআাই ওয়ান মোঃ মিজানুর রহমান, বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ ও অন্যান্য কর্মকর্তাসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে অভিযুক্ত মালিক তাপস নন্দী ও শফিকুল ইসলাম হেলাল এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি মজুত অপসারণ জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন