শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় অজ্ঞাতনামা এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযানে জড়িতদের গ্রেফতার করে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে সংস্থাটি।
গত ১ এপ্রিল সকাল ৮টায় শ্রীবরদী থানা পুলিশ একটি অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই পিবিআই, জামালপুর ইউনিটের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত ডলি আক্তার (পিতা: মো. আলাল মিয়া) নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থানার বাসিন্দা।
পরিবারকে খবর দিলে তার ভাই মো. শফিকুল ইসলাম শফিক মিয়া শ্রীবরদী থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করেন এবং ২ এপ্রিল একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০১, ধারা ৩০২/১০২/৩৪ পেনাল কোড)।
মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই, জামালপুর ইউনিট দ্রুত মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ৩ এপ্রিল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি শনাক্ত করা হয়। পরে শ্রীবরদীর ভেলুয়া ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে পিকআপ চালক মো. আশরাফ আলীকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও শেরপুরে একাধিক অভিযান চালিয়ে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ৪ এপ্রিল ভোরে শেরপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভাতশালা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে প্রধান আসামি নিয়ামুর নাহিদ (২৬) ও তার স্ত্রী রিক্তা মনিকে গ্রেফতার করে পিবিআই। পরে আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্তে জানা যায়, ডলি আক্তারের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা ও পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে নিয়ামুর নাহিদ তাকে ৩০ মার্চ রাতে নিজের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে স্ত্রী রিক্তা মনির সহায়তায় মরদেহ একটি ট্রাংকে ভরে শ্রীবরদী এলাকায় ফেলে রেখে তারা গাজীপুরে পালিয়ে যায়।
পিবিআই সূত্র জানায়, মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে পিকআপ চালক মো. আশরাফ আলীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পিবিআই, জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা দ্রুত তদন্ত শুরু করি। পিবিআই টিমের সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টা ও তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অল্প সময়েই রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।”
গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
পিবিআই’র এ সফলতা আবারও প্রমাণ করেছে—দ্রুততা, দক্ষতা ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে জটিল অপরাধ উদঘাটনে সংস্থাটি দিন দিন আরও কার্যকর হয়ে উঠছে।




সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন