সাংবাদিকরা আমন্ত্রিত নয়”—ইসির সভায় ডিসির বক্তব্যে শেরপুরে সংবাদ বয়কট

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জেলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে কর্মরত সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ বয়কটের ঘোষণা দেন, যা দিনব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আয়োজিত এ সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
সভা কভার করতে গিয়ে সাংবাদিকরা জানতে পারেন, তারা এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত নন। অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান নিজেই সাংবাদিকদের সভাকক্ষ ত্যাগ করতে বলেন। এতে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
পরে নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। এ পরিস্থিতিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধার প্রতিবাদ জানিয়ে সাংবাদিকরা সম্মিলিতভাবে সংবাদ বয়কট করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ত্যাগ করেন।
শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল জানান, জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে পূর্বেই সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই তারা উপস্থিত হন। তবে সভাকক্ষে সাংবাদিকদের বসার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, “বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানালে তিনি সরাসরি বলেন, সাংবাদিকরা আমন্ত্রিত নন এবং সভা শুরুর আগেই আমাদের বের হয়ে যেতে বলা হয়। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে স্পষ্ট বাধা।”
সাংবাদিকদের অভিযোগ, চলমান নির্বাচনকে ঘিরে অনিয়ম, আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল বিষয়ে প্রশ্ন এড়াতেই তাদের সভা থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনার সকাল সাড়ে ১০টায় শেরপুর সার্কিট হাউসে পৌঁছান। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। একই দিন দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাটিকে “অনাকাঙ্ক্ষিত” উল্লেখ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে বসে বিষয়টির সমাধান করা হবে।
তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর জেলায় রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন জেলা বর্তমান জেলা প্রশাসক । ১২ই ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে শেরপুর সদর আসনের প্রার্থী ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বর্তমান জেলা প্রশাসক ও সেসময় রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে জামায়াত ইসলামী দলের পক্ষে কাজ করার অভিযোগও ওঠে, যা নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং নির্বাচনকালীন তথ্যপ্রবাহ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)