শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) স্থগিতকৃত জাতীয় সংসদ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। আগামী ৯ এপ্রিল সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েনের পাশাপাশি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে।
নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে ১৬ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৩ এপ্রিল রাত থেকেই বিজিবি সদস্যরা দুই উপজেলায় অবস্থান গ্রহণ করেন এবং ৪ এপ্রিল থেকে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তারা আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় স্থাপিত ৪টি বেইজ ক্যাম্প থেকে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় নিয়োজিত বিজিবির অন্যান্য ইউনিটও নির্বাচনী নিরাপত্তায় সহায়তা করছে। শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সেনাবাহিনীর সরাসরি দায়িত্ব পালনে আইনি সীমাবদ্ধতা থাকলেও বিজিবির শক্তিশালী উপস্থিতি সেই ঘাটতি পূরণ করবে। ১৬ প্লাটুনে প্রায় ৩২০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে র্যাবের ১০টি টিম মাঠে কাজ করছে এবং ৪টি টিম রিজার্ভ হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুলিশের ২৬টি মোবাইল টিম টহলে নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ১৮ জন পর্যবেক্ষক মাঠে থাকবেন। পাশাপাশি ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করবেন। সেনাবাহিনীর কয়েকটি টিমও স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় থাকবে বলে জানা গেছে।
প্রতি ভোটকেন্দ্রে ৫ থেকে ৬ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি ১২ জন করে আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তার এই বহুমাত্রিক ব্যবস্থা ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হবে। একই সঙ্গে ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোট প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুজনিত কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে ঘোষিত নতুন তফসিল অনুযায়ী আগামী ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এ আসনে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াত প্রার্থী আলহাজ্ব মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রশাসনের এই ব্যাপক প্রস্তুতি ভোটারদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১৬ প্লাটুন বিজিপি, র্যাব-পুলিশের সমন্বিত টহল, ম্যাজিস্ট্রেট ও পর্যবেক্ষকদের নজরদারিতে সুষ্ঠু ভোটের প্রত্যাশা সকলের।



সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন