শেরপুর-৩ আসনে বিপুল ব্যবধানে বিএনপির বিজয়; কম উপস্থিতির মধ্যেও আদিবাসী নারী ভোটারদের সরব অংশগ্রহণ
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারগুণের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। এ বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে নতুন গৌরব অর্জন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, ধানের শীষ প্রতীকে মাহমুদুল হক রুবেল পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাসুদুর রহমান পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯১ ভোট। এতে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৬৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হন রুবেল।
রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা মাহমুদুল হক রুবেলের এই বিজয়কে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার পিতা ও চাচা দুজনই সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। নিজেও এর আগে তিনবার এমপি নির্বাচিত হওয়া রুবেল এবার চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য হয়ে পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করলেন।
নির্বাচনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮টি এবং বাতিল ভোট ২ হাজার ৮৬টি। সব মিলিয়ে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৪টি, যা মোট ভোটারের প্রায় ৫২ দশমিক ১৯ শতাংশ।
এর আগে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।
তবে ভোটগ্রহণ চলাকালীন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মাসুদুর রহমান। তিনি বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট, এজেন্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগ তোলেন।
যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোটগ্রহণ হয়েছে এবং বড় ধরনের কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সার্বিকভাবে ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও ঝিনাইগাতী উপজেলার আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
সকালে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, অনেক কেন্দ্রে উপস্থিত ভোটারদের প্রায় ৯০ শতাংশই আদিবাসী নারী। গারো ও কোচ সম্প্রদায়ের এসব নারী ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন বলে জানান।
তারা বলেন, কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্যে ভোট দিতে পেরে তারা সন্তুষ্ট।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অভিযোগ পাওয়া গেলেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি এ আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত করা হয়। পরে ৯ এপ্রিল পুনঃনির্ধারিত তারিখে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।






সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন