শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের স্থগিত নির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে শেষ মুহূর্তে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, গণসংযোগ ও নানা কৌশলে জমে উঠেছে পুরো নির্বাচনী মাঠ। দিন-রাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা।
বিশেষ করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল জোরালো প্রচারণার মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রতিদিনই হাট-বাজার, গ্রাম-গঞ্জ ও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, কৃষি ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন তিনি।
রুবেল বলেন, “জনগণের অধিকার ও উন্নয়নের স্বার্থে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় জরুরি। বিএনপি উন্নয়নের রাজনীতি করে, সেই ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
তার প্রচারণায় স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতারাও সক্রিয় রয়েছেন। তাদের অংশগ্রহণে মিছিল-মিটিং ও গণসংযোগে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান মাসুদও নীরবে কিন্তু কৌশলী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুরুতে কিছুটা গোপনে গণসংযোগ চালালেও বর্তমানে প্রকাশ্যেই ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন তিনি। তবে তার নির্বাচনী কৌশল নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এদিকে, নির্বাচনী মাঠে গোপনে টাকা বিতরণের অভিযোগ নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। দুজন জামাত ইসলামির নেতাকর্মীকে টাকা বিতরণে অভিযোগে আইনের আওতায় নিয়ে আসেন উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী । বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কিছু স্থানে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ বিতরণের চেষ্টা করা হয়েছে এবং এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ধরা পড়েছেন বলেও আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্য প্রার্থীরাও এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এসব অনিয়ম বন্ধ করা জরুরি।
উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুজনিত কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন নতুন তফসিল ঘোষণা করে ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে।
দুই উপজেলা—শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ২৭৭ জন। এ আসনে বিএনপির মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতের মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. মিজানুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তাপ বাড়ছে শেরপুর-৩ এর ভোটের মাঠে। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের আস্থা কে অর্জন করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন