কৃষকের ঘামে ভেজা সোনালি ফসলে এমপির ছোঁয়া: শেরপুরের চরাঞ্চলে কৃষকের সাথে ধান কাটলেন প্রিয়াঙ্কা

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
তপ্ত রোদ আর চরের তপ্ত বালু মাড়িয়ে যখন কৃষকেরা মাঠের সোনালি ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই তাদের পাশে এসে দাঁড়ালেন এক মমতাময়ী জনপ্রতিনিধি। শেরপুরের প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের এক সাধারণ কৃষকের মতোই হাতে কাস্তে তুলে নিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। কৃষকের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ধান কেটে চরের মেঠোপথে এক অনন্য ও আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা করলেন তিনি।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে শেরপুর সদর উপজেলার কামারের চর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পয়েন্টস্তির চর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মূলত স্থানীয় কাটাখালি খাল খননের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করতে গিয়ে চরের মেহনতি মানুষের চিরচেনা জীবনসংগ্রামের সাথে নিজেকে একাত্ম করেন এই নারী সংসদ সদস্য।
এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ বিএনপি নেতা, শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং এমপি প্রিয়াঙ্কার গর্বিত পিতা মো. হযরত আলীসহ জেলা ও স্থানীয় বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীবৃন্দ।
সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা যখন কাস্তে হাতে মাঠে নামেন, তখন চরের প্রান্তিক কৃষকদের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে এক চিলতে বিস্ময় আর পরম আনন্দ। রোদে পুড়ে, ঘাম ঝরিয়ে যে সোনার ফসল তারা ফলিয়েছেন, দেশের একজন শীর্ষ আইনপ্রণেতা নিজের হাতে তা কাটছেন—এই দৃশ্য গ্রামীণ কৃষকদের মাঝে বিপুল উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
কৃষকের সাথে ধান কাটার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে ডা. প্রিয়াঙ্কা বলেন আমাদের এই চরাঞ্চলের মানুষেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে এই সোনালি ফসল ফলান। তাদের এই অমানুষিক পরিশ্রমকে সম্মান জানাতে এবং তাদের মনে একটু আনন্দ দিতেই আমি আজ প্রতীকীভাবে ধান কাটলাম। এই মাঠে এসে আমি আজ নিজে অনুভব করলাম, আমাদের চরের মানুষগুলো কতটা কষ্ট ও ত্যাগের বিনিময়ে মুখে অন্ন তুলে দেন। তাদের এই ঘামের মূল্য অপরিসীম।
ধান কাটা শেষে ডা. প্রিয়াঙ্কা প্রস্তাবিত কাটাখালি খাল খনন এলাকা ঘুরে দেখেন। চরের কৃষকদের প্রতি গভীর দরদ দেখিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, খাল খনন করতে গিয়ে যেন কোনো প্রান্তিক কৃষকের আবাদি জমির ক্ষতি না হয়, সে বিষয়টি তিনি নিজে তদারকি করবেন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় কৃষকদের সাথে দীর্ঘ সময় পরামর্শও করেন।
কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করে এই তরুণ সাংসদ আরও বলেন, "চরের প্রান্তিক কৃষকেরা যেন তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পান এবং সময়মতো সার, তেল, বীজসহ সব ধরনের সরকারি প্রণোদনা পান—তা নিশ্চিত করতে আমি জাতীয় সংসদে জোরালো আওয়াজ তুলবো।"
রাজনীতির চেনা গণ্ডি পেরিয়ে একজন সাংসদের এমন সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার দৃশ্যটি এখন শেরপুরের চরাঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে। মাঠের ধূলিবালি আর কৃষকের ঘামের সাথে মিশে ডা. প্রিয়াঙ্কা প্রমাণ করলেন, তিনি কেবল সংসদের প্রতিনিধি নন, তিনি চরের মেহনতি মানুষের অতি আপনজন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)