শেরপুরে একটি চালের গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় জিরা, ভেজাল আতপ চাল, মসলা, বিষাক্ত কেমিক্যাল ও ভেজাল পণ্য তৈরির নানা সরঞ্জামসহ আক্তারুজ্জামান নামে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ। ২০ মে বিকেলে শেরপুর সদর উপজেলার পাকুড়িয়া ফকিরপাড়া গ্রামে এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন আক্তার এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানার নেতৃত্বে এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটক আক্তারুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত গলে চোরাই পথে ভারত থেকে নিম্নমানের জিরা, চাল ও নানা ধরনের মসলা এনে এই গুদামে মজুত করতেন। এরপর সাধারণ ভোক্তাদের চোখ ফাঁকি দিতে নিম্নমানের পচা ও রঙচটা পণ্যে ক্ষতিকর সুগন্ধি ও বিষাক্ত কেমিক্যাল মেশাতেন, যাতে সেগুলোকে একদম টাটকা ও আসল মনে হয়। প্রক্রিয়াজাতকরণের পর এসব ভেজাল পণ্য দেশের নামী-দামী ও প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের হুবহু নকল মোড়কে ভরা হতো। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে মসলার বাড়তি চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে এই বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত ও নকল পণ্য বাজারে ছাড়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল এবং প্রতিদিন সেখানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য তৈরি করা হচ্ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নকল ও চোরাচালানের পণ্যের পরিমাণ এতটাই বেশি যে, সেগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে আসতে অন্তত দুটি মিনি ট্রাক ব্যবহার করতে হয়েছে। জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় জিরা, জিরার গুঁড়া, ভেজাল ও নিম্নমানের আতপ চাল, হলুদ ও মরিচের গুঁড়াসহ বিভিন্ন ধরনের নকল মসলা, পণ্য আকর্ষণীয় করার জন্য ব্যবহৃত নিষিদ্ধ ও বিষাক্ত কেমিক্যাল এবং ভেজাল পণ্য তৈরির নানাবিধ যান্ত্রিক সরঞ্জাম ও নামী ব্র্যান্ডের বিপুল সংখ্যক খালি প্যাকেট।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন আক্তার জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। উদ্ধারকৃত মালামাল গণনা ও জব্দ তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এই বড় ধরনের নকল ও ভেজাল চক্রের সাথে আর কার কার যোগসাজশ রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করছে এবং এই ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন