শেরপুর জেলা শহরের পৌর এলাকার ঢাকলহাটি মহল্লার বাসিন্দা ও মোল্লা মিনি অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব হোসেন আলী মোল্লা অভিযোগ করেছেন, মানবিক কারণে একটি অসহায় সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারকে নিজের ক্রয়কৃত জমিতে বসবাসের সুযোগ দিয়ে এখন তিনি চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আলহাজ হোসেন আলী মোল্লা ও তার স্ত্রী মুর্শিদা বেগম ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে একাধিক সাফকবলা দলিলের মাধ্যমে মিনা রানী, ইন্দু রানী, রবীন্দ্র চন্দ্র নন্দী, মনতুষ চন্দ্র নন্দী ও বসন্ত কুমার নন্দীর কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট দাগের জমি বৈধভাবে ক্রয় করেন। দলিল নম্বর ৭৪৬১ (১৫ জুন ১৯৮৮), ১৭২৯০ (২০ ডিসেম্বর ১৯৮৬), ৫৯৬৯, ৬৭৫৬ ও ৬৮০৭ (১৯৮৬) এর মাধ্যমে এসব জমি ক্রয় করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ঘটনাস্থলে গেলে আলহাজ হোসেন আলী মোল্লার ছেলে রমজান আলী মোল্লা সাংবাদিকদের সামনে জমির দলিল ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, নন্দী পরিবারের অধিকাংশ সদস্য এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দীনেশচন্দ্র নন্দী অসহায় হয়ে পড়েন। তখন মানবিক বিবেচনায় তার বাবা দীনেশচন্দ্রকে রাইস মিলে নাইট গার্ডের চাকরি দেন এবং নিজেদের ক্রয়কৃত জমিতে একটি ছাপড়া ঘর নির্মাণ করে বসবাসের সুযোগ করে দেন।
রমজান আলী মোল্লার অভিযোগ, দীর্ঘদিন চাকরি করার পর দীনেশচন্দ্র নন্দী বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। এরপর তার স্ত্রী ও ছেলে পানেশ নন্দী ওই ঘরেই বসবাস করতে থাকেন। কিন্তু পরবর্তীতে পানেশ নন্দী জাল কাগজপত্র তৈরি করে তাদের ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি নিজের নামে নামজারি (খারিজ) করে নেন বলে তারা জানতে পারেন।
এ ঘটনার পর আলহাজ্ব হোসেন আলী মোল্লা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের পর তদন্ত শেষে উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে পানেশ নন্দীর উপস্থাপিত কাগজপত্রকে ভুয়া বলে প্রতীয়মান হওয়ায় তার নামে করা ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ জমির নামজারি বাতিল করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার নম্বর ২৬৬১ (এলএক্স,এল), ২০২৪-২০২৫। সংশ্লিষ্ট বিআরএস খতিয়ান নম্বর ৩৮৫, নামজারি খতিয়ান নম্বর ২৪২৪ এবং বিআরএস দাগ নম্বর ১২৭৬।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পানেশ নন্দীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে (০১৭৪৫০৮৮১২২) যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য দেননি।
রমজান আলী মোল্লা বলেন, "আমরা মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা যদি জাল কাগজপত্র তৈরি করে আমাদের জমি দখলের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের সেখানে থাকার কোনো নৈতিক বা আইনগত অধিকার নেই। ইতোমধ্যে আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নামজারি বাতিলের আদেশের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষ ও শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ড রুম শাখায় প্রেরণ করেছেন।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন