নিজস্ব প্রতিবেদক \
জামালপুর সদর উপজেলার প্রাচীণ নান্দিনা বাজারসহ পূর্বাঞ্চলের আনাচে কানাচে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠছে ওষধের দোকান। এসব ঔষধের দোকানের অধিকাংশে নেই কোনো ড্রাগ লাইসেন্স। বেশিরভাগ ঔষধের দোকানে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বিক্রি করা হচ্ছে হাই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ। তাছাড়া ভেজাল ঔষধে বাজার সয়লাব। কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না ভেজাল, মানহীন ও নকল ওষুধ। এসব ঔষুধ সেবনে ক্যান্সার, স্ট্রোক ও কিডনি বিকল হয়েছে অনেকেরই। আবার কেউ কেউ মৃত্যু হয়েছে ভেজাল ঔষুধের কারণে। ঔষুধ প্রশাসনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ফার্মেসি দিয়ে বসে পড়েছেন ঔষুধ এক শ্রেণীর বেকার যুবক। এসব ফার্মেসি ব্যবসায়ীরা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই হায়ার অ্যান্টিবায়োটিক, নিষিদ্ধ, ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিভিন্ন নিম্নমানের যৌন উত্তেজক ঔষুধ অবাধে বিক্রি করছে।
অথচ ড্রাগ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ৪ নম্বরের ১৩ নাম্বার ধারার ‘ফার্মাসিস্টদের নিয়োগ’ শিরোনামের ২ নাম্বার উপ-ধারায় উল্লেখ আছে কোনো খুচরা বিক্রেতা বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের কোনো রেজিস্ট্রারের রেজিস্ট্রিভুক্ত ফার্মাসিস্টদের তত্ত্বাবধান ব্যতিরেকে কোনো ড্রাগ বিক্রি করতে পারবে না। কিন্তু এ সকল বিধি-বিধানকে তোয়াক্কা না করে অত্রাঞ্চলে অধিকাংশ ফার্মেসি চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঔষুধ ব্যবসায়ী বলেন, লাইসেন্স পাওয়ার জন্য মোটা অংকের ঘুষ দিয়েও ওষুধ প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও দালালদের দ্বারা নানা প্রকার হয়রানির শিকার হতে হয়। তাছাড়া একটি লাইসেন্স নিতে হলে সব শর্ত মানার পরেও মোটা টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে যায়। ফলে মানহীন ভুল ওষুধ যেমন বিক্রি হয়, তেমনি এসব ঔষুধ কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্রেতারা। মাধ্যমিক পার হননি এমন অনেকেই ফার্মেসিতে চাকরি করছেন। অনেকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রও পড়তে পারেন না। ঔষুধের নামের আধ্যাক্ষর দেখে অনুমান করে ওষুধ বিক্রি করার অভিযোগও আছে। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় ভুল ঔষুধও বিক্রি হয়ে যায়।
কোন রেজিস্ট্রার্ড ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ব্যতীত সিপ্রোফ্লোক্সাসিলিন, এজিথ্রোমাইসনসহ অনেক হাই অ্যান্টিবায়োটিক, ঘুমের বড়ি, ব্যথানাশক ও নিম্নমানের যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট অবলীলায় বিক্রি করছে। এছাড়াও প্রকাশ্যে মজুদ রেখে বিক্রি করা হচ্ছে আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ।
জানা যায়, জামালপুর সদরের প্রাচীণ ঐতিহ্যবাহী নান্দিনা বাজার। এখানে হাতে গুনা কয়েকটি বাদে বেশিরভাগ ঔষধের দোকানে লাইসেন্স রয়েছে। আবার কিছু কিছু ঔষধের দোকানের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। কিন্তু প্রতিবেশি মহেশপুর কালিবাড়ী, বারুয়ামারী, লাহিড়ীকান্দা, শ্রীপুর, বাঁশচড়া, নরুন্দি, ঘোড়াধাপ, ইটাইল, পিয়ারপুর বাজারে অধিকাংশ দোকানে লাইসেন্স নেই। একটি সূত্র জানায়, লাইসেন্সবিহীন এসব ঔষধের দোকানে ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে ভালোমানের ঔষুধের চেয়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি কমিশন দেয়া হচ্ছে। এতে করে বেশি লাভের আশায় ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রিতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে এসব ঔষুধ ব্যবসায়ীরা। অবৈধ ফার্মেসিগুলো সাধারণ মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে অপেক্ষাকৃত কমমূল্যের ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষুধ বেশি মূল্যে বিক্রি করছে, যা রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে উল্টো নানা উপসর্গের সৃষ্টি করছে।


সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন