জামালপুরের বকশীগঞ্জের জিঞ্জিরাম ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীতে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী পাড়ের মানুষ। টানা এক সপ্তাহের ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে ঘর-বাড়ি ও ফসলী জমি। এছাড়াও ভাঙন হুমকিতে রয়েছে শতাধিক বসত ভিটা ও কয়েক একর ফসলের মাঠ। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বাঙালপাড়া, কুতুবেরচর গ্রাম।
নদীর পূর্ব পাশের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকার ভাঙনের কারনে নি:স্ব হতে যাচ্ছে অর্ধশত পরিবার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বাঙালপাড়া, কুতুবেরচর গ্রামে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক মাসের ভাঙনে অনেক পরিবার এখন নিঃস্ব। নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় চরম হতাশায় ভুগছে নদী পাড়ের মানুষ।
ইতিমধ্যে বাঙাল পাড়া ও কুতুবেরচর এই দুই গ্রামের শহিজল হক,আব্দুল মজিদ, লুৎফর রহমান, ফজল মিয়া, মিস্টার আলী, জুব্বার আলীসহ প্রায় ৪০ জনের ৫০/৬০ টি বাড়িঘর ও গ্রামীন রাস্তা ও কয়েকটি বিদ্যুৎতিক খুঁটি নদীর গর্ভে চলে গেছে। ফলে দুই গ্রামে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এমনকি কুতুবেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে হুমকির মুখে।
স্থানীয়রা বলছেন- ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন না করলে ক্ষতিগ্রস্থ হবে প্রায় আড়াই হাজার বাসিন্দা। আর নদী শাসনের জন্য একাধিক জায়গায় যোগাযোগ করলেও সমাধান না পাওয়ার অভিযোগ তাদের।
গত কয়েক বছর যাবত কুতুবের চর ও বাঙ্গালপাড়া গ্রামে ভাঙন অব্যাহত থাকায় ক্ষতি ঠেকাতে স্থায়ী বাধ নির্মানের দাবি এলাকাবাসীর।
মিস্টার আলী নামের বাসিন্দা বলেন, গত সপ্তাহে থেকে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। কারো কোন নজর নাই। আমার তিনটি ঘরের মধ্যে একটি ঘর নদীতে চলে গেছে। আর বাকি দুটি ঘর কখন যে নদীতে তলিয়ে যায় সে ভয়ে আছি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না ভয়ে। সন্তানদের নিয়ে রাতভর জেগে থাকি ভয়ে।
বাঙালপাড়া গ্রামের নদী ভাঙনের শিকার শহিজল হক বলেন, গত কয়েক বছরের ভাঙনে মাথা গোঁজার ঠঁাই হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে যাই। বাপ দাদার ভিটে হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে গেলাম। কোথায় দাঁড়াবো বুঝতেছিনা। সব নিয়েছে নদী আর এই ৩ শতাংশ জমি আছে এই খানি ভাঙলে কই যামু যাওয়ার কোন যায়গা নাই।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: নকিবুজ্জামান খান বলেন -পানি কমলে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহন করবে তারা। এছাড়াও ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ভাঙন ঠেকাতে কবলিত স্থানে বাশ বা গাছের ডালপালা ফেলার পরামর্শ দিচ্ছে তারা।
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা জানান, সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে তা আমরা অবগত হয়েছি। যেসব পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে তাদের তালিকা করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।
সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন