সুলতান আহমেদ ময়না | শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
শেরপুরের আলোচিত আইনজীবী ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল এর জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার (২০ অক্টোবর) শেরপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাসান ভূঁইয়া এ আদেশ দেন। চন্দন কুমার পাল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির নেতা ও শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন। তিনি পূর্বে হাইকোর্ট থেকে ছয়টি মামলায় জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতের একটি মামলায় জামিন নেন, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন এবং নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হননি। এ অবস্থায় আদালত তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।জামিনদাতা অ্যাডভোকেট মুখলেসুর রহমান আকন্দ ও চন্দনের ভাই অ্যাডভোকেট শক্তিপদ পালও আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের জামিনদানের বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান আদালতে বলেন—“বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যারা আহত ও নিহত হয়েছেন, তার মাষ্টারমাইন্ড ছিলেন অ্যাডভোকেট চন্দন পাল। তিনি জামিনে থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছেন। ইতোমধ্যে তার পাসপোর্ট বাতিল করে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।”শুনানিতে স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট আশরাফুন্নাহার রুবী, অ্যাডভোকেট আল-আমীন এবং কোর্ট ইন্সপেক্টর মোঃ জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে জামিন বাতিল ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পক্ষে মত দেন।কোর্ট ইন্সপেক্টর জিয়াউর রহমান বলেন—“চন্দন পাল ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আইনকে উপহাস করেছেন। জামিনে থেকেও আদালতে হাজির হননি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। যেকোনো সময় তিনি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করতে পারেন। তাই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা জরুরি। ছাত্র নেতার মন্তব্যের জবাব দিলেন পিপি রায়ের সময় আদালতপাড়ায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহত-নিহত পরিবারের সদস্যরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় ছাত্র আন্দোলনের একজন নেতা অভিযোগ করেন—“আজ যেভাবে চন্দন পালের জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছে, আগে যদি এমনভাবে বিরোধিতা করা হতো তাহলে তিনি এতদিন পলাতক থাকতে পারতেন না।”এই মন্তব্যের জবাবে পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান দৃঢ় ভাষায় বলেন—“আমি আগেই তার জামিনের বিরোধিতা করেছি এবং সতর্ক করেছিলাম তিনি বিদেশে পালাতে পারেন। আদালতের আদেশের কপি আমি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছিলাম। আমার পক্ষ থেকে বিরোধিতায় কোনো ঘাটতি ছিল না। আইনের মাধ্যমেই তার আগের জামিন হয়েছিল, আজ আইনের মাধ্যমেই তার জামিন বাতিল হয়েছে।রায় ঘোষণার পর বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে নিষ্পত্তির দাবি জানান।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন