দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শেরপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম মাসুদকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।
কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
তবে জানা গেছে, এর আগেই গত ১৩ জুলাই ২০২৫ তারিখে মাসুদ স্বেচ্ছায় তার পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং দলের কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানান যে, তিনি ইতোমধ্যে শেরপুর জেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রী জিতেন্দ্র মজুমদারকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে অনুরোধ জানান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রিয় ও সাহসী নেতা হিসেবে পরিচিত শফিকুল ইসলাম মাসুদ সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। শেরপুর সদর আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পান সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা — এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জেলা শহরে মাসুদের সমর্থনে প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ “মনোনয়ন পরিবর্তন চাই” শ্লোগানে বিশাল সমাবেশ করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কেন্দ্রীয় যুবদল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় বলে দলীয় মহলে আলোচনা চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাসুদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত মূলত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ। জনমনে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা হিসেবে মাসুদকে অব্যাহতি দেওয়া হলে দলের সংগঠনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উল্লেখ্য, শফিকুল ইসলাম মাসুদ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রদল থেকে শুরু করে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আওয়ামী সরকারের আমলে একাধিক মামলায় গ্রেফতার হয়ে প্রায় তিন বছর কারাভোগ করেছেন। ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উল্লেখযোগ্য ভোট পান তিনি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি শেরপুর-১ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন