শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ২৫ দিনের মধ্যে বিচার কার্যক্রম সম্পন্নের দাবিতে চার দফা দাবি ঘোষণা করেছে বিপ্লবী মঞ্চ শেরপুর।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে শেরপুর পৌর শহরের শহীদ স্কয়ারে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে সংগঠনটি। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা “হাদি ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না”, “জুলাইয়ের হাদি ভাই, আমরা তোমায় ভুলিনি”, “শহীদ হাদি আজাদি” সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামী কণ্ঠ এবং ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার একজন অগ্রসেনানি। তাদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতরে একটি গোপন শক্তি কাজ করছে, যারা এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নমনীয় ও প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা পালন করছে।
বক্তারা আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তাদের আশ্রয়দাতা দিল্লির জন্য শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন বড় হুমকি। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন অবস্থানের কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ হত্যাকাণ্ডের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যায়নি।
তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খুনিদের দেশত্যাগের খবর যেখানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিদেশি সাংবাদিকরা প্রকাশ করেছে, সেখানে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৬ দিন পর বিষয়টি জানায়—যা চরম ব্যর্থতার প্রমাণ। শুধু ফয়সাল ও আলমগীর নয়, এই হত্যাকাণ্ডের অর্থদাতা, পরিকল্পনাকারী ও সহযোগী সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা।
সমাবেশে বিপ্লবী মঞ্চ শেরপুরের আহ্বায়ক আরাফাত রহমান তালুকদার সরকারের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—
১. শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের মূল খুনি ও জড়িত চক্রকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে ২৫ দিনের মধ্যে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
২. নির্বাচনের আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থায় অবস্থানরত আওয়ামী দোসর ও ভারতীয় গুপ্তচরদের চিহ্নিত করে সংস্কার করতে হবে।
৩. বাংলাদেশে অবস্থানরত সব ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট পুনর্মূল্যায়ন করে বাতিল করতে হবে। ভারত আশ্রয়প্রাপ্ত খুনিদের ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হবে।
৪. দেশবিরোধী ও বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী মঞ্চ শেরপুরের সদস্য সচিব নাহিম আহমেদ নিলয়, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা রুমান মোল্লা, সেলিম মিয়া, মাজহারুল ইসলাম বিজয়।
এছাড়া সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা মুখ্য সংগঠক মোর্শেদ জিতু, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মনিবুল ইসলাম, নালিতাবাড়ী উপজেলার আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী আলমগীর, রেজাউল করিমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন