শীতের শেষে বসন্তের আগমনী বার্তায় হলুদে হলুদ হয়ে উঠেছে জামালপুর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। মাঠজুড়ে দোল খাচ্ছে সরিষা ফুল, আর সেই ফুলের বুকেই গুঞ্জন তুলে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত অসংখ্য মৌমাছি। প্রাকৃতিক এই সমন্বয়ে গ্রামবাংলার চিরচেনা সৌন্দর্য যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরিষা ক্ষেতে দেখা যাচ্ছে, ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়াচ্ছে মৌমাছির ঝাঁক।
চর জালালেরপাড়ার শাকিল কৃষক জানান, সরিষা ফুল মৌমাছির জন্য উৎকৃষ্ট মধু উৎস। ফুল থেকে ফুলে পরাগ সংগ্রহের সময় মৌমাছি যেমন মধু তৈরি করে, তেমনি পরাগায়নের মাধ্যমে সরষের ফলনও বাড়ায়। ফলে এটি কৃষি ও প্রকৃতির জন্য একেবারেই উপকারী সম্পর্ক। স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ মৌচাক বসিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে মধু সংগ্রহ করছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরিষা ফুলের মধু হালকা রঙের ও সুগন্ধিযুক্ত হয়, যা বাজারে বেশ চাহিদাসম্পন্ন। এ মৌসুমে মৌমাছির সক্রিয়তা ভালো থাকায় মধু সংগ্রহও সন্তোষজনক হবে বলে আশা করছেন তারা।
সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির গুঞ্জন, হলুদ ফুলের ঢেউ আর নীল আকাশ সব মিলিয়ে দৃশ্যটি এখন প্রকৃতিপ্রেমী ও আলোকচিত্রীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে এই মনোরম পরিবেশ উপভোগ করছেন, ছবি তুলছেন, স্মৃতিতে বন্দি করছেন বসন্তের এই অনন্য মুহূর্ত।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সরষে চাষের পাশাপাশি মৌমাছি ও মধু উৎপাদনকে উৎসাহিত করা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। প্রকৃতির এই সহাবস্থানই প্রমাণ করে সঠিক যত্নে কৃষি শুধু ফসল নয়, সৌন্দর্য ও জীবিকার নতুন দুয়ারও খুলে দিতে পারে।


.jpg)

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন