৭০ বছরের চলাচলের পথ বন্ধ, দুর্ভোগে ৩১ পরিবার : শ্রীবরদীতে মৃত ডাক্তারের সন্তানদের বিরুদ্ধে রাস্তা দখলের অভিযোগ

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলায় প্রায় সাত দশক ধরে ব্যবহৃত একটি জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে গোশাইপুর ইউনিয়নের বালিয়াচন্ডী পূর্বপাড়ার অন্তত ৩১টি পরিবার।
আজ ৩ ডিসেম্বর বিকালে সরেজমিনে জানা যায়, বালিয়াচন্ডী পূর্বপাড়ায় মরহুম ডাক্তার আব্দুল কুদ্দুসের মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে পাকিস্তান আমল থেকেই স্থানীয়রা চলাচল করে আসছেন। জীবদ্দশায় ডাক্তার আব্দুল কুদ্দুস এলাকায় না থাকলেও গ্রামে এলে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করে বলতেন—তাঁর জীবিত থাকা অবস্থায় কিংবা পরে কারও চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না।
কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর সন্তান মো. ওয়াকিল ও অপর এক ভাই প্রথমে গেট নির্মাণের কথা বলে এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে, গেটের পাশ দিয়েই চলাচল করা যাবে। পরবর্তীতে তারা কৌশলে চলাচলের রাস্তাটি টিনের বেড়া দিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা তখনকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও গোশাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক জামাল ইসলামকে অবহিত করলে, ইউএনও সরেজমিনে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েক মাস আগে রাস্তা খুলে দেন। তবে সম্প্রতি আবারও হঠাৎ করে একই স্থানে টিনের বেড়া দিয়ে রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে এলাকাবাসী টিনের বেড়ার নিচ দিয়ে মাথা নিচু করে নারী-পুরুষ ও ছোট শিশুদের নিয়ে অতি কষ্টে চলাচল করছেন। বিকল্প পথে যেতে হলে অনেক দূর ঘুরে যেতে হয়, যা বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে কার্যত চলাচলের মতো কোনো নিরাপদ রাস্তা নেই বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
এলাকার একজন ভুক্তভোগী ও মরহুম ডাক্তার আব্দুল কুদ্দুসের বাড়ির কেয়ারটেকারের স্ত্রী বলেন, “আমিও টিনের বেড়ার নিচ দিয়েই প্রতিদিন আমার বাড়িতে যাতায়াত করি। এটা খুবই কষ্টকর।”
আরেক ভুক্তভোগী মো. রঞ্জু মিয়া জানান, “আমার বাবা শফিজুল হক ডেরো জীবিত থাকা অবস্থায় ডাক্তার আব্দুল কুদ্দুস এর কাছে জমি কিনে বাড়ি করেন এবং এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করতেন। ডাক্তার কুদ্দুস আমাদের রাস্তা ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন, কিন্তু লিখিত দলিল না থাকায় তাঁর মৃত্যুর পর সন্তানরা এখন বাধা দিচ্ছে।”
এলাকাবাসী আরও জানান, প্রয়োজনে তারা নিজেদের জমির পাশে আব্দুল কুদ্দুসের জমি এক কোণার প্রায় ৩ শতাংশ ক্রয় করে হলেও রাস্তা রাস্তার প্রয়োজনে এলাকাবাসী রাজি আছেন, কিন্তু ডাক্তার আব্দুল কুদ্দুসের সন্তানরা সে প্রস্তাবও মানতে নারাজ।
এ বিষয়ে গোশাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক জামাল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এর আগেও আমি গিয়ে রাস্তা খুলে দিয়েছিলাম। পরে আবার বন্ধ করা হয়েছে বলে শুনেছি। আমি ৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এলাকায় যাচ্ছি, তখন বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।”
দীর্ঘদিনের চলাচলের একমাত্র রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বালিয়াচন্ডী পূর্বপাড়ার বাসিন্দারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)