শেরপুরে মনোনয়ন বাছাই শেষ: ৫ প্রার্থী বাতিল, একজনের স্থগিত, বৈধ ১০

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
সুলতান আহমেদ ময়না | শেরপুর জেলা প্রতিনিধি :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শেরপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। বাছাই শেষে এক বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সাময়িকভাবে স্থগিত, পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং দশজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এসব তথ্য জানান জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান।
রিটার্নিং অফিসার জানান, দ্বৈত নাগরিকত্ব (অস্ট্রেলিয়া) বাতিলের আবেদন সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিলেও আবেদন গ্রহণের চূড়ান্ত প্রমাণপত্র দাখিল না করায় শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী মো. ফাহিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। বিকেল ৫টার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
এদিকে কাগজপত্রে অসঙ্গতি, ঋণখেলাপি হওয়া এবং দলীয় মনোনয়নের কাগজ জমা না দেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে শেরপুর-১ (সদর) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক মনি, জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিলকারী মো. ইলিয়াস উদ্দিন এবং খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী শফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
শেরপুর-২ আসনে ঋণখেলাপিসহ নানা অসঙ্গতির কারণে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বেলাল এবং দলীয় কাগজপত্র না থাকাসহ তথ্য গোপনের অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিলকারী মো. ইলিয়াস উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন—
শেরপুর-১ (সদর):
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা,
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম,
এনসিপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া
এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী):
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া (ভিপি)
এবং ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল্লাহ আল কায়েস।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী):
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল,
জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা নুরুজ্জামান বাদল,
ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী মুফতি আবু তালেব মো. সাইফুদ্দিন 
এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বাদশা।
স্থগিত হওয়া প্রার্থী প্রকৌশলী মো. ফাহিম চৌধুরী বলেন, “বিএনপি থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই আমি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য আবেদন করেছি। বড়দিন ও নতুন বছরের ছুটির কারণে প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময় নিচ্ছে। আবেদনপত্র ও নির্ধারিত ফি পরিশোধের কপিও জমা দিয়েছি। এরপরও যদি মনোনয়ন বাতিল করা হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করব।”
জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান আরও জানান, শেরপুর জেলায় মোট ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ১০ জনের মনোনয়ন বৈধ, ৫ জনের বাতিল এবং একজনের মনোনয়ন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)