ঝিনাইগাতীতে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে সংঘর্ষ

মোঃ সাইদুর রহমান সাদী
0
বিএনপির অভিযোগ: পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে জামায়াত প্রার্থী সমর্থকরা, বিএনপির শীর্ষ ও তৃণমূল নেতাসহ আহত অন্তত ৩০

সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি।।  শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক নেতৃবৃন্দসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এ সংঘর্ষ ঘটে।
ঘটনার পর সন্ধ্যা পর্যন্ত এলাকায় থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল, ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হাসানসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা মঞ্চে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠান শুরুর অপেক্ষায় ছিলেন।
এ সময় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের সমর্থকরা আগে থেকেই চেয়ারে বসে থাকেন। অপরদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল তখনো অনুষ্ঠানস্থলে না পৌঁছানোয় তার নেতা-কর্মীরা অপেক্ষমাণ ছিলেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে বিএনপির অভিযোগ অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী সমর্থকরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সংঘর্ষে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষ চলাকালে একটি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সংবাদ সংগ্রহকালে দুইজন সাংবাদিক আহত হন এবং তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অভিযোগ করে বলেন, “উগ্রবাদী জামায়াত পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। ইশতেহার অনুষ্ঠান শুরুর আগমুহূর্তে প্রস্তুতি নিয়ে তারা আমাদের ওপর আক্রমণ করে। এতে আমাদের দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ গুরুতর আহত হয়েছেন এবং অনেকে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।”
ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজীব সাহা জানান, “এ পর্যন্ত ১২ জন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জনকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। আরও ১০ থেকে ১২ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।”
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল জানান, শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে চেয়ারে বসা নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)