তেরো বছরে আমাদের সত্যের গল্প

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
\ মোঃ আতাউর রহমান সানি \
বারো বছরের একটা সময়, শুনলে ছোট মনে হয়, কিন্তু যারা প্রতিদিন সংবাদকক্ষে কাটিয়েছে, মাঠে নেমেছে, রাত জেগে শিরোনাম গেঁথেছে তাদের কাছে এই বারো বছর এক বিশাল অধ্যায়। আজ “দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন” যখন তেরোতম বছরে পা রাখছে, মনে হয়—আমরা শুধু একটি পত্রিকা বড় করিনি, বড় করেছি এক পরিবারের মতো সম্পর্ক, এক সমাজের সঙ্গে আমাদের সত্যভিত্তিক বন্ধন। আমি বহুবার ভেবেছি, সংবাদপত্র আসলে কী? কাগজে ছাপা কিছু খবর? না এটি আসলে মানুষের জীবনকথা, সময়ের দলিল, সমাজের প্রতিফলন। আমরা যারা এই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত, তারা প্রত্যেকেই জানি—সংবাদ লেখা মানে কখনো আনন্দের গল্প বলা, কখনো বুকের ভিতরের কষ্টের কান্না ছাপানো। একটি ছোট ভুলে যেমন কারও জীবন প্রভাবিত হয়, তেমনি একটি নির্ভুল প্রতিবেদন সমাজে আলো জ্বেলে দিতে পারে। এই দায়িত্ববোধই আমাদের প্রতিদিন সতর্ক করে, আমাদের শিখিয়ে দেয় সাংবাদিকতা মানে কেবল খবর নয়, এটি এক নৈতিক সাধনা। জামালপুর শহরের একটি ছোট অফিস থেকে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল, হাতে সীমিত সরঞ্জাম আর বুকভরা বিশ্বাস নিয়ে। আজ “সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন” সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠিত দৈনিক, কিন্তু এই অর্জন সংখ্যার নয় এটি বিশ্বাসের অর্জন। শেরপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহসহ পুরো অঞ্চলের মানুষ আজ আমাদের সঙ্গে যুক্ত পাঠক হিসেবে, তথ্যদাতা হিসেবে, বা অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে। তাদের চোখে আমরা নিজেদের দেখি; তাদের সমস্যার মধ্যে খুঁজি আমাদের দায়িত্ব। আমাদের সহকর্মীদের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। রোদে, বৃষ্টিতে, ঝড়ে তারা ছুটেছেন খবরের খোঁজে। কখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়েও সত্যকে পাঠকের হাতে তুলে দিয়েছেন। তাদের সেই নিষ্ঠা, ধৈর্য ও ভালোবাসাই এই পত্রিকার আসল মূলধন। অনেক সময় দেখা যায়, একটা রিপোর্ট বা ছবি হয়তো খুব বেশি প্রচার পায়নি কিন্তু সেই প্রতিবেদনের ফলেই কোনো অসহায় মানুষ ন্যায্যতা পেয়েছেন—সেই মুহূর্তেই সাংবাদিকতার সব পরিশ্রম সার্থক হয়ে ওঠে। এই বারো বছরে আমরা শিখেছি সংবাদপত্র কেবল কণ্ঠস্বর নয়, এটি সময়ের সাক্ষী। প্রতিদিন আমাদের সামনে আসে নানা প্রশ্ন, বিভ্রান্তি, চাপ, এবং প্রতিযোগিতা; তবুও আমরা চেষ্টা করি—যা সত্য, তা বলার। কখনো হয়তো পথ কঠিন হয়, সমালোচনার তীরও ছোঁয়া দেয় কিন্তু আমরা জানি যে কলম সত্যের জন্য উঠে, তার পেছনে থাকে জনগণের বিশ্বাস। তেরোতম বর্ষে পদার্পণ মানে আমাদের জন্য নতুন দায়িত্ব। কারণ যত বড় হই, তত বড় হয় প্রত্যাশা। আমরা চাই, আমাদের লেখায় যেন আরও বেশি থাকে সাধারণ মানুষের গল্প, আরও শক্তভাবে ফুটে উঠুক সামাজিক দায়বদ্ধতা। আমরা চাই তরুণ প্রজন্ম সাংবাদিকতাকে আবারও দেখুক মূল্যবোধের চোখে, যেখানে সত্য, ন্যায় আর মানবিকতা একসাথে বেঁচে থাকে।
আমাদের পত্রিকার প্রতিটি সহকর্মী জানে এই কাজ কখনো সহজ নয় কিন্তু অর্থবহ। কখনো পুরস্কার মেলে না, প্রশংসা আসে না, তবুও আমরা লিখি কারণ এই লেখা কারও জীবনের গল্প বদলে দিতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, সাংবাদিকতা থেমে যায় না; এটি কেবল রূপ বদলায়। হয়তো একদিন কাগজের জায়গায় পুরোপুরি পর্দা আসবে কিন্তু আমাদের ‘সত্যের সন্ধান’ থামবে না যতদিন মানুষের গল্প থাকবে, ততদিন সংবাদ বেঁচে থাকবে। এই দীর্ঘ যাত্রায় যারা পাশে ছিলেন পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, সংবাদদাতা, শুভানুধ্যায়ী আর সেই মানুষগুলো, যাদের গল্প আমরা প্রতিদিন লিখি তাদের সবার প্রতি রইল গভীর কৃতজ্ঞতা। আমাদের তেরোতম বছরে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আরও দায়বদ্ধ, আরও মানবিক, আরও নির্ভীক সাংবাদিকতার পথে হাঁটতে। আমরা জানি, সময় বদলাচ্ছে, চ্যালেঞ্জ বাড়ছে, কিন্তু আমাদের আস্থা অটল সত্যের পথে চলাই আমাদের একমাত্র দিকনির্দেশ।
লেখক : সহ-সম্পাদক, দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন, জামালপুর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)