জামায়াত নেতা হত্যায় স্ত্রীর মামলা: প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য ও উত্তপ্ত জনতার দিকে যাওয়ায় বিপদ বাড়ে—দায় জামায়াত প্রার্থীরই- রুবেল

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহতের ঘটনায় বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার পেছনের বাস্তবতা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে জামায়াত প্রার্থীর সিদ্ধান্তই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তোলে।
শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) মধ্যরাতে ঝিনাইগাতী থানায় নিহত রেজাউল করিমের স্ত্রী মার্জিয়া বেগম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২৩৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁইয়া।
মামলায় প্রধান হুকুমের আসামি করা হয়েছে শেরপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা আমির হাফিজুর রহমান।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২৮ জানুয়ারি বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শেরপুর-৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সামনের সারির চেয়ার দখলকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও শান্ত থাকার নির্দেশ উপেক্ষা করে জামায়াত নেতাকর্মীরা উত্তেজিত পরিস্থিতির মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি দফায় দফায় সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে সন্ধ্যার দিকে ঝিনাইগাতী বাজার এলাকায় গুরুতর আহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রশাসন ও দলীয় নেতাদের নিষেধ সত্ত্বেও উত্তপ্ত জনতার দিকে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্তই তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শেরপুর সদর হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
জামায়াতের জেলা আমির হাফিজুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও এর জন্য মূলত জামায়াতই দায়ী। তারা প্রশাসন ও নেতাদের কথা না শুনে উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যায়। আমি ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। নির্বাচনকে ব্যাহত করতেই এই ঘটনা সাজানো হয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে উত্তেজিত জনতার দিকে অগ্রসর হওয়াই পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। সময়মতো দায়িত্বশীল আচরণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা হলে এই প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)