চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ।। ১১ বছর পর ক্ষতিপূরণসহ ৫৫ লাখ টাকা দাবি, শেরপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শেরপুরের নকলা উপজেলার এক ভুক্তভোগী ব্যক্তি।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মোঃ একরামুল হক ডালিম। তিনি নকলা উপজেলার কুর্শিবাদাগৌড় গ্রামের বাসিন্দা।
লিখিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ২০১৪ সালের ৫ অক্টোবর তারিখে তার এক আত্মীয়কে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোঃ মোজাম্মেল হক বকুল (পিতা– মৃত বজলুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান) তার কাছ থেকে নগদ ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। অভিযুক্ত মোজাম্মেল হক বকুল নকলা উপজেলার ধনাকুশা গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগে বলা হয়, টাকা গ্রহণের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি চাকরি দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘদিন সময়ক্ষেপণ করেন। পরবর্তীতে চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে নানা অজুহাতে বছরের পর বছর ভুক্তভোগীকে ঘুরাতে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার শালিস বৈঠক হলেও অভিযুক্ত প্রতিশ্রুতি দিয়েও টাকা ফেরত দেননি।
এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি রাতের আঁধারে নকলা এলাকা ছেড়ে শেরপুর শহরে এসে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে তিনি শেরপুর কসবা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজে লাইব্রেরিয়ান পদে কর্মরত রয়েছেন।
ভুক্তভোগী আরও জানান, প্রায় এক মাস আগে কলেজের কয়েকজন প্রভাষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুনরায় একটি শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে কলেজের প্রভাষক মোঃ মাসুদ রানা অভিযুক্তের জিম্মাদার হন এবং এক মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো টাকা পরিশোধ করা হয়নি।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উল্টো টাকা ফেরতের জন্য চাপ দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগী ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানি ও জেল খাটানোর হুমকি দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি কলেজে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। পাশাপাশি টাকার বিনিময়ে জাল সনদপত্র সরবরাহের সঙ্গেও তিনি জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়। এসব অভিযোগের পক্ষে সাক্ষী ও ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
দীর্ঘ ১১ বছরে টাকার মূল্যমান বৃদ্ধি পাওয়ায় মূল অর্থের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ যোগ করে মোট ৫৫ লাখ টাকা আদায়ের দাবি জানান ভুক্তভোগী একরামুল হক ডালিম। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, পাওনা অর্থ উদ্ধার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ মোজাম্মেল হক বকুলের সঙ্গে মুঠোফোনে সাংবাদিক সম্মেলনের কথা বলে অভিমত চাইলে তিনি বলেন আমি কোন সাক্ষাৎকার দিতে পারব না । আগে সত্যতা প্রমাণ করুন তারপর আমার কাছে ভিডিও বা সাক্ষাৎকার নিতে আসবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)