নকলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সহকারীকে মারধর করার অভিযোগ

দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন
0
সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ।।
শেরপুর জেলার নকলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার অধীনস্থ সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম দে-কে মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বকেয়া বিল পরিশোধ সংক্রান্ত মতবিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে নকলা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতরেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আহত পার্থ প্রতীম দে শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিজের জীবনের নিরাপত্তা দাবি করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাচন অফিসের অফিস সহকারী আল ইমরান পূর্ববর্তী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সময়ের অফিস খরচ বাবদ বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়টি বর্তমান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের কাছে উত্থাপন করেন। এ বিষয়ে তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম দে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে নজরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজের পাশাপাশি পার্থ প্রতীম দে-কে কিল-ঘুষি মারেন। এতে তিনি আহত হন। পরে ওইদিনই পার্থ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে নকলা উপজেলা নির্বাচন অফিস পরিদর্শন করে ঘটনার বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত শুরু করেন। তদন্তকালে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং তা চাকরির আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উপজেলা নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আশরাফুজ্জামান জুয়েল এবং আইডিয়া প্রকল্পের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আঞ্জুমান আরা পপি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তারা জানান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তদন্ত চলাকালে তাদেরকে এ বিষয়ে অন্য কারও সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করেছেন।
সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পার্থ প্রতীম দে জানান, তিনি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের সঙ্গে একই সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করতেন। সেখানে অফিস সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে তার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো। ঘটনার পর থেকে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “প্রতিটি অফিস একটি পরিবারের মতো। পরিবারের কর্তা হিসেবে শাসন করার অধিকার আমার রয়েছে।”
তবে অধস্তন কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, “সেদিন পার্থর সঙ্গে আসলে কোনো ঘটনাই ঘটেনি।”

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)