নির্বাচনী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জামায়াত আমিরের প্রশাসন ব্যর্থ হলে প্রতিহত করা ওয়াজিব : ডা. শফিকুর রহমান

মোঃ সাইদুর রহমান সাদী
0
সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি।। 
নির্বাচনী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সাহসী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ সন্ত্রাস চালাতে চাইলে প্রথমেই প্রশাসনকে জানাতে হবে। কিন্তু প্রশাসন যদি নীরব থাকে এবং সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য তৈরি হয়, তাহলে তা প্রতিহত করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শেরপুর শহরের শহিদ দারোগ আলী পৌর পার্ক মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান।
এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের গোপালখিলা এলাকায় বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের কবর জিয়ারত করেন ডা. শফিকুর রহমান। গত ২৭ জানুয়ারির ওই ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার না করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জামায়াতের নারী নেত্রীদের নির্বাচনী প্রচারে বাধা ও নিপীড়নের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “বহু জায়গায় মায়েদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে। কেউ কেউ হুমকি দিয়েছে—বোরকা ও হিজাব পরে ভোট চাইলে কাপড় খুলে ফেলা হবে। যারা মা-বোনদের কাপড় খুলে নেওয়ার কথা বলে, তারা পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—মায়েদের গায়ে হাত উঠলে বাংলাদেশ বিস্ফোরিত হবে।”
১২ ফেব্রুয়ারির ভোটকে ‘জাতির বাঁক পরিবর্তনের দিন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাংলাদেশ চায়, যেখানে তুচ্ছ কারণে হানাহানি ও নোংরা রাজনীতি থাকবে না। রাজনীতির নামে মানুষ হত্যা হলে সেই রাজনীতি আমরা ঘৃণা করি।
রাজনৈতিক মামলায় গণহারে ভুয়া আসামি করার সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে কেউ চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবে না। আমরা কোথাও চাঁদাবাজি করি না। বাংলাদেশে আমরা মোট ১ হাজার ২০০টি মামলা করেছি, যার মধ্যে ৮টি মামলায় একজন করে আসামি। কিন্তু অন্যরা হাজার হাজার মানুষকে আসামি করে মামলা দিয়ে পরে তাদের কাছ থেকে নানা সুবিধা নেয়—এগুলো হারাম।”
শেরপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেরপুর একটি কৃষিপ্রধান জেলা। এখানে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা দেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশের কোনো জেলা মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে।
সভা শেষে জামায়াত আমির শেরপুর-১ আসনের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, শেরপুর-২ আসনের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া এবং শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)