শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী ‘পাগলা বাস্তু’ পূজা ও লোকজ মেলা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত চলে দিন-রাতব্যাপী এই বর্ণিল আয়োজন।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও উপজেলার চাপাঝড়া গ্রামে এই বাস্তু পূজাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কোচ, হাজং ও বর্মন সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয় সীমান্ত জনপদ। সনাতনী বিশ্বাস অনুযায়ী, বসতবাড়ি ও জনপদের অশুভ শক্তি দূর করে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় এই সুপ্রাচীন আধ্যাত্মিক আচার পালিত হয়ে আসছে। শুক্রবার ভোরে পশু (পাঠা) বলির মধ্য দিয়ে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় কোচ নেতা ও শিক্ষক যুগল কোচ জানান, মধ্যরাতে ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী বিশেষ প্রার্থনা ও মানত পূরণের উদ্দেশ্যে পশু উৎসর্গ করা হয়। এটি এই অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজস্ব সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
পূজার পাশাপাশি মেলার মাঠ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। গ্রামীণ ঐতিহ্যের নাগরদোলা, মাটির খেলনা, হস্তশিল্প, পোশাক ও গৃহস্থালি পণ্যের শত শত অস্থায়ী দোকান মেলায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। বিশেষ নজর কেড়েছে পাহাড়ি জনপদের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও মিষ্টান্ন।
এই মেলা কেবল হিন্দু বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; পাহাড়ের গারো খ্রিষ্টান ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেন। ফলে উৎসবটি পরিনত হয় এক পহাড়িয়া সম্প্রীতির উৎসবে।
শত বছর ধরে চলে আসা এই ‘পাগলা বাস্তু’ মেলা এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। মেলায় আসা ব্যবসায়ীরা জানান, মাত্র একদিনের এই আয়োজনে বিপুল পরিমাণ লোকসমাগম হওয়ায় বাৎসরিক ব্যবসার একটি বড় অংশ এখান থেকে অর্জিত হয়।
শারদীয় দুর্গোৎসব বা অন্যান্য বড় উৎসবের মতোই ‘পাগলা বাস্তু’ মেলা এখন শেরপুরের সীমান্ত এলাকার মানুষের কাছে অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসব হিসেবে স্বীকৃত।


সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন