মহান মে দিবস উপলক্ষে শেরপুর জেলা বেসিক ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো আনন্দঘন ও উদ্দীপনাময় এক কর্মসূচি। শুক্রবার (১ মে) দিনব্যাপী আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। হাজারো শ্রমিকের উপস্থিতিতে শেরপুরের আকাশ-বাতাস যেন শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের স্লোগান আর গানের সুরের মূর্ছনায় মুখরিত হয়ে ওঠে।
আলোচনা সভার পাশাপাশি আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে লোকজ সংস্কৃতি ও দেশাত্মবোধক গানের সুর শ্রমিকদের মাঝে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে। দিনের কর্মব্যস্ততা ভুলে হাজারো শ্রমিক মে দিবসের উৎসবে মেতে ওঠেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি যেন কেবল বিনোদন নয়, বরং শ্রমিকদের ঐক্য ও সংহতির এক অনন্য বার্তাবাহক হিসেবে ফুটে ওঠে। শ্রমিকদের মুখে হাসির ঝিলিক আর উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা পুরো আয়োজনকে এক বর্ণিল রূপ দিয়েছিল।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাঝেই প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথি ও সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল বলেন: "আমি ও আমার দল বিএনপি সবসময় শ্রমিকদের সাথে রয়েছি। আমি নিজেও আপনাদের একজন হিসেবে মনে করি, শ্রমিকদের মর্যাদা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। শ্রমিকদের ওপর জেলা প্রশাসনের বৈষম্যমূলক আচরণের আমি তীব্র নিন্দা জানাই এবং এ ব্যাপারে উচ্চপর্যায়ে কথা বলব। এছাড়া শ্রমিক সংগঠনের সভাপতিকে আইনশৃঙ্খলা কমিটির অন্তর্ভুক্ত করার দাবিটি আমি আগামী সভায় জোরালোভাবে উত্থাপন করব। শ্রমিকদের সব ন্যায্য দাবি নিরসনে আমি ও আমার সরকার সবসময় পাশে থাকব।"
বিশেষ অতিথি আবু রায়হান রূপম বলেন: "শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আমি সবসময় সোচ্চার। আগামীতে পৌরসভার দায়িত্ব পেলে শ্রমিকদের সব সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। জেলা প্রশাসন যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।"
বিশেষ অতিথি মো. কামরুল হাসান বলেন: "শ্রমিকদের জন্য এত চমৎকার ও সুশৃঙ্খল একটি আয়োজন দেখে আমি অভিভূত। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী বিশেষ কাজে আসতে না পারলেও তিনি শ্রমিকদের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা ও সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।"
অনুষ্ঠানে ঐক্য পরিষদের সভাপতি দিদারুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, "শ্রমিকরাই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। আমরা প্রীত শ্রমিকদের যেকোনো সংকটকালে পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।" অনুষ্ঠানে ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেলকে ফুলের মালা ও তোড়া দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপি ও শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: বিএনপি নেতৃবৃন্দ: মো. আব্দুল লতিফ, সুলতান আহমেদ ময়না, আবু শামা, মো. আশরাফুল আলম জুন।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দ: জেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি ফয়সাল খান তোতা, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সায়েম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শওকত হোসেন, সাবেক জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত ডিয়ন,যারা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন, ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মিয়া এবং ট্রাক, মিনিট্রাক, ট্যাঙ্গলড়ি, কভারভ্যান চালক শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদসহ ২৬টি সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ।
জেলা পরিষদের প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ রাষ্ট্রীয় কাজে প্রশিক্ষণে থাকায় উপস্থিত হতে না পারলেও তিনি শ্রমিকদের প্রতি শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রমজান আলী।
এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ের যেমন নতুন আশা খুঁজে পেয়েছেন, তেমনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুরের মূর্ছনায় মে দিবসের চেতনা পেয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা।
আয়োজনে: শেরপুর জেলা বেসিক ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ, শেরপুর।

সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন