![]() |
| \ মোঃ রাশেদুর রহমান রাসেল \ |
প্রশ্ন হলো, এই সমস্যার সমাধান কি আদৌ অজানা? মোটেই নয়। বরং আমরা দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যাকে দেখছি, একইভাবে আলোচনা করছি, কিন্তু কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারছি না। শুধুমাত্র কৃষকদের দায়ী করে এ সমস্যার সমাধান হবে না। বাস্তবতা হলো অনেক ক্ষেত্রেই তাদের সামনে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা বা বিকল্প ব্যবস্থা নেই। ফলে তারা বাধ্য হয়ে সড়ক ব্যবহার করেন।
এক্ষেত্রে দায়িত্ব নিতে হবে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে নির্দিষ্ট ধান শুকানোর স্থান নির্ধারণ করা গেলে সমস্যার বড় একটি অংশ সমাধান হতে পারে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কম খরচে মাড়াই ও শুকানোর অবকাঠামো তৈরি করা জরুরি। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে এই সমস্যা বারবার ফিরে আসবে।
আইন প্রয়োগের বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক দখল করে ধান শুকানো যে একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, তা অনেকেই গুরুত্ব দেন না। নিয়মিত তদারকি, প্রয়োজনে জরিমানা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। তবে আইন প্রয়োগ যেন হয় মানবিক ও বাস্তবতার আলোকে কেবল শাস্তি নয়, সমাধানের পথও দেখাতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। আমরা অনেক সময় এটিকে ‘স্বাভাবিক’ বা ‘চলমান প্রথা’ হিসেবে মেনে নিই। কিন্তু যে প্রথা মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে কৃষক, পথচারী, চালক সবার সম্মিলিত উদ্যোগে।
প্রতি বছর আমরা লিখি, বলি, আলোচনা করি কিন্তু বাস্তব পরিবর্তন খুব কমই দেখি। তাহলে কি আমরা শুধু লিখেই যাবো? নাকি এবার সত্যিই কার্যকর পদক্ষেপ নেবো? সময় এসেছে এই প্রশ্নের বাস্তব উত্তর দেওয়ার।
সড়ক যেন সড়কই থাকে, মাড়াইঘর না হয় এটাই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার। এখনই উদ্যোগ না নিলে আগামী বছরও একই দৃশ্য, একই দুর্ঘটনা, একই হতাশা আমাদের সামনে ফিরে আসবে। আর তখন আর বলার কিছু থাকবে না থাকবে শুধু আফসোস।
লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন, জামালপুর।

.jpg)
সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন