শেরপুরের ইতিহাসে এই প্রথম জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এক মঞ্চে উপস্থিত হলেন জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য। চার জনপ্রতিনিধির একযোগে অংশগ্রহণে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষ ‘রজনীগন্ধা’ রূপ নিয়েছিল এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর মিলনমেলায়। শেরপুরের উন্নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলার স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন, তা জেলার ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।
১০ মে রবিবার সকালে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এই ঐতিহাসিক ও প্রাণবন্ত সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত সবাই এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটির সাক্ষী হন।
সভায় প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থেকে শেরপুরের উন্নয়ন ও শান্তির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন কমিটির চার উপদেষ্টা—শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল, শেরপুর-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী এবং সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ।
চার সংসদ সদস্য তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ যার যার হতে পারে, কিন্তু শেরপুরের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো আপস নেই। শেরপুরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জেলা গড়ে তুলতে তাঁরা চারজন এক হয়ে কাজ করার ঘোষণা দিলে সভাকক্ষে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাকিল আহমেদ, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন, এনএসআই-এর উপপরিচালক মো. ইফতেখারুল হক, জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মান্নান এবং প্রেসক্লাব সভাপতি কাকন রেজা।
এবারের সভার আরেকটি অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির স্থগিতকৃত কমিটির আহবায়ক অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম, বিএনপি নেতা আব্দুল আওয়াল চৌধুরী, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান এবং জেলা এনসিপির আহবায়ক প্রকৌশলী মো. লিখন মিয়া।
আইন-শৃঙ্খলা কমিটির এই সভায় ৫টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাগণ (ইউএনও), সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শেরপুরের সর্বস্তরের মানুষ মনে করছেন, সব ক'টি আসনের এমপি এবং সংরক্ষিত নারী আসনের এমপির একযোগে এই সভায় অংশ নেওয়া কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, এটি ছিল জেলার সম্প্রীতি ও সমন্বিত অগ্রযাত্রার এক নতুন মাইলফলক।


সরকারি মিডিয়া (ডিএফপি) তালিকাভুক্ত জামালপুরের প্রচারশীর্ষ দৈনিক-সত্যের সন্ধানে প্রতিদিন অনলাইন ভার্সন । আপনার মতামত প্রকাশ করুন